ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬
২৬ °সে

মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

খালেদা জিয়ার ৩ রিটের আজ আদেশ

খালেদা জিয়ার ৩ রিটের আজ আদেশ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

তিনটি আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না— এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবে হাইকোর্ট।

মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার দায়েরকৃত তিনটি রিট আবেদনের ওপর সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আদেশের জন্য মঙ্গলবার ধার্য করে দেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি বিএনপির ৫ নেতা নির্বাচনে অংশ নেবেন এ বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট আবেদন খারিজ করে দেয়। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন বিএনপির এক নেতা। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে। একইভাবে হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ সাবিরা সুলতানা নামে এক প্রার্থীর সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে। অর্থাত্ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরেও দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করায় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ইসিতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। এতে বলা হয় উনি দণ্ডিত এ কারণে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ যদি ব্যাখ্যা করা হয় তাহলে সেটা হলো চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তির পর। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। এখনো তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা কোথায়। এছাড়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন থাকার পরেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নজির মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মামলায় রয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।

আরো পড়ুন : প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রার্থীরা

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ইসি বেআইনিভাবে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। আশা করছি উনি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে খালেদা জিয়াকে দলীয় মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তিনটি আসনে নেওয়া খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে শনিবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রবিবার হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট ৫ বছরের পরিবর্তে দশ বছর এবং নিম্ন আদালত চ্যারিটেবল মামলায় ৭ বছরের দণ্ড দেয়। এই দণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেছেন।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন