ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩০ °সে


তাদের মেরুদণ্ড সোজা করেছে মেরুদণ্ডহীন প্রাণী

তাদের মেরুদণ্ড সোজা করেছে মেরুদণ্ডহীন প্রাণী
কেঁচো দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করে এখন সাবলম্বী রাণীনগরের কুজাইল গ্রামের নারীরা। ছবি: ইত্তেফাক

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কাশিমপুর ইউনিয়নের একটি আদর্শ গ্রাম কুজাইল। বর্তমানে এই গ্রাম ‘কম্পোস্ট সারের গ্রাম’ নামে পরিচিত। মেরুদণ্ডহীন প্রাণী কেঁচো আজ এই গ্রামের মহিলাদের মেরুদণ্ড সোজা করতে সহযোগিতা করছে। ঘর গৃহস্থালির পাশাপাশি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে আজ স্বাবলম্বী কুজাইল গ্রামের মহিলা সিআইজি (সবজি) সমবায় সমিতির মহিলারা।

এখন স্বামীর পাশাপাশি সংসারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন এই সমিতির মহিলারা। প্রতি মাসে কারখানা থেকে প্রায় দুই হাজার কেজি উন্নত মানের কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন হচ্ছে। এখান থেকে খরচ বাদে মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর এই সার চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কমছে ফসলের ক্ষেতে রাসায়নিক সার ব্যবহার।

সমিতির দলনেত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, গ্রামের কয়েকজন মহিলা নিয়ে দলীয়ভাবে পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ করতাম। সবজি ক্ষেত থেকে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার উপায় জানতে কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন কৃষি অফিস ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এবং মাটির উত্তম স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নামের এক প্রযুক্তির আওতায় কেঁচো লালন-পালন, গোবর সংগ্রহ, হাউজ বা চাড়িতে দেওয়া, কম্পোস্ট সার তৈরির পর সেগুলো সংগ্রহ, প্যাকেজিং এবং বাজারজাতকরণ করাসহ নানা বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়। বর্তমানে আমাদের কারখানায় ১০টি বড় হাউজ রয়েছে।

এছাড়া শতাধিক মাটির চাড়িতে এই কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছি। আমাদের দেখে গ্রামের অধিকাংশ মহিলারা এই কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছে। বর্তমানে আমাদের এই গ্রাম ‘কম্পোস্ট সারের গ্রাম’ নামে পরিচিত। উৎপাদিত সারে নিজেদের ঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে বিষমুক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করছি। আমরা প্রতি মাসে দুই হাজার কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছি। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। এছাড়া আমরা ৫ কেজি কিংবা ১০ কেজির প্যাকেট তৈরি করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে থাকি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিস মহিলাদের এই ধরনের উদ্যোগে যাবতীয় উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কেঁচো দিয়ে পরিবেশ বান্ধব কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। ওই গ্রামের অনেকেই এই সার উৎপাদন করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি প্রদর্শনী প্লট, ১০ কেজি কেঁচো এবং পাকা ১০টি চেম্বার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এই গ্রামের মতো যদি পুরো উপজেলার কৃষকরা এই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহার করেন তাহলে দেশ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আরও এগিয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন