ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
৩১ °সে


চীনের বিনিয়োগ আনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ
গ্রাফ : ইত্তেফাক

বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে লাভক্ষতির হিসাব মেলাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সুবিধা পাওয়া প্রধান চারটি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা খরচ কমাতে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসের হিসাবে দেখা গেছে, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ১২ শতাংশ কমে গেছে। এই সময়ে আমদানি বেড়েছে ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, ৩৬ শতাংশ। তাইওয়ান থেকে বেড়েছে ২৩ শতাংশ, বাংলাদেশ থেকে ১৪ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১২ শতাংশ। উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও বাড়তি শুল্কের হাত থেকে রক্ষা পেতে চীন থেকে শিল্প-কারখানাও এখন এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে সরছে। সম্প্রতি চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টসহ আরো কিছু খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় চীনের উত্পাদিত বেসবল ক্যাপ, ব্যাগ, মোটরসাইকেলের মতো পণ্য মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়েছে। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্য, যেমন—ওয়াশিং মেশিন, ডিশ ওয়াশার, হেয়ার ড্রায়ার, ওয়াটার ফিল্টার ইত্যাদির দামও বেড়েছে। এছাড়া চীনের উল্লেখযোগ্য বড়ো রপ্তানি পণ্য গার্মেন্ট পণ্যের ওপরও ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এটি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। গত বছর চীনের সঙ্গে বাণিজ্য হয়, এমন ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আরো বিশাল পরিমাণ চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা অন্য দেশগুলো থেকে আমদানিতে ঝুঁকছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া বেশকিছু পণ্যের ওপরও চীন শুল্ক বাড়িয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানে অনুষ্ঠিত জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে চীনের ওপর নতুন ট্যারিফ স্থগিত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পর মে মাসে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চীন থেকে তাদের কারখানা স্থানান্তর কথা বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যে যারা চীন ছেড়েছে, তাদের এক-চতুর্থাংশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে গিয়েছে। মাত্র ৬ শতাংশ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা সরিয়ে নিয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অপেক্ষাকৃত কম মজুরির সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতির কারণে চীন থেকে স্থানান্তর হওয়া ক্রয়াদেশ কিংবা বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। গবেষণা-প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইত্তেফাককে বলেন, ভিয়েতনাম কেবল তৈরি পোশাকনির্ভর নয়। প্রযুক্তিসহ উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রয়েছে তাদের। ফলে চীন থেকে সরে আসা অর্ডার খুব সহজে তারা ধরতে পারে। কিন্তু কেবল গার্মেন্ট-নির্ভর হওয়ায় আমরা সেই সম্ভাবনার খুব সামান্যই কাজে লাগাতে পারছি। অন্যদিকে গার্মেন্টেও আমাদের উচ্চমূল্যের পণ্য কম। দীর্ঘ মেয়াদে আরো শুল্ক আরোপের শঙ্কা কিংবা অনিশ্চয়তায় চীন থেকে বিনিয়োগও সরছে। চীনের বিনিয়োগ আনতে পারলে বাংলাদেশ দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবে। কিন্তু অবকাঠামোসহ বিনিয়োগ প্রস্তুতিতে আমরা ভিয়েতনামের চাইতে অনেক পিছিয়ে। এই চ্যালেঞ্জ যত দ্রুত মোকাবিলা করা যাবে, তত দ্রুত বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: রাজধানীর ভাটারায় গৃহবধূ খুন, স্বামী পলাতক

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লেও দাম কমছে। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে চীনের আগ্রহ বেড়েছে। তারা গার্মেন্টসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। আর বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। আলোচ্য সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ। একই সময়ে চীন থেকে পোশাক আমদানি না বেড়ে কমেছে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম থেকে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ভারত থেকে ১২ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন