ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
৩৪ °সে


পেঁয়াজের ঝাঁজের সঙ্গে সবজির বাজার চড়া

কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি
পেঁয়াজের ঝাঁজের সঙ্গে সবজির বাজার চড়া
ফাইল ছবি

পেঁয়াজের ঝাঁজ না কমতেই এবার সবজির বাজার চড়া। হঠাৎ করেই গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজিভেদে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোনো কোনো সবজির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কাঁচা মরিচ কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ও অতিবৃষ্টিতে সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর বাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে সবজিবাজারের এই চিত্র পাওয়া যায়। এদিকে হঠাত্ করে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভোক্তারা। এমনিতেই প্রায় এক মাস ধরে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও ডিমের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে সবজির দাম বাড়ায় কষ্টে আছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে করলা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙা ও কাঁকড়ল ৬০ টাকা,

ঢ্যাঁড়শ, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় সবজিভেদে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। গত সপ্তাহে এক কেজি কাঁচা মরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

কাওরানবাজারের সবজিবিক্রেতা বেলায়েত বলেন, বন্যায় ও বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে আগের মতো সবজি আসছে না। আবার যেসব সবজি আসছে, সেসবের মানও ভালো না। তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হলে কী হবে, আমাদের তো লাভ নাই। বেশি দামে কেনা বেশি দামে বেচা।’

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় ভ্যানগাড়িতে করে সবজি বিক্রি করেন মাসুদ। তিনি বলেন, আগে ১ হাজার টাকার সবজি কিনলে ভ্যান ভরে যেত। এখন সেই টাকায় সবজি কিনলে চোখেই পড়ে না। এক সপ্তাহ আগেও মাসুদ এক কেজি পুঁইশাক বিক্রি করতেন ১০ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি করেছেন ২০ টাকায়। তা-ও লাভ নেই বলে তার আক্ষেপ!এদিকে পেঁয়াজ-রসুনের বাজার এখনো চড়া। রসুনের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

আরও পড়ুন: ‘বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা’

তবে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ৫ টাকা কমে গতকাল বাজারে তা বিক্রি হয় ৪০ টাকা। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ২০০ টাকায়।

এদিকে বাজারে মাংসের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন