ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩০ °সে


ফের ৫ হাজারের নিচে ডিএসই’র সূচক

ফের ৫ হাজারের নিচে ডিএসই’র সূচক
শেয়ারবাজারে দরপতন (ফাইল ছবি)

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলছে। গত ছয় কার্যদিবস ধরে দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ফের ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। এর আগে গত ২২ জুলাই সূচক ৫ হাজারের নিচে নেমেছিলো। সর্বশেষ বুধবারও এই বাজারে সূচক কমেছে ২০ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে গত ৬ কার্যদিবসেই সূচক কমেছে ২০০ পয়েন্ট। এছড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮৯ পয়েন্ট। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লোকসান মেনেই বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করতে সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলো। তা সত্বেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরানো যাচ্ছে না। ফলে ক্রমাগত বাজার মূলধন হারাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ দিনে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। আর বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাজার মূলধন নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ক্রেতা না থাকলে বাজার পড়বে। তবে সাম্প্রতিক টানা দরপতনের পেছনে গ্রামীণ ফোন ইস্যু ও সম্প্রতি পিপল্স লিজিংয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে তিনি অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বেশি হারে বিক্রি করে দেওয়া, অপেক্ষাকৃত ভালো শেয়ারের অভাব আর তারল্য সংকটকে দায়ী করেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বাজার থেকে বের হয়ে গেছে এবং আরো বের হচ্ছে। আবার বেশ কিছু বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে আছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুধবার ডিএসই’র প্রধান সূচক ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে। এছাড়া আগের কার্যদিবসের চেয়ে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে গতকাল মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার। বুধবার হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩২টির, কমেছে ১৬৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির।

ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- মুন্নু সিরামিকস, স্টাইল ক্রাফট, রেনেটা লিমিটেড, মুন্নু স্টাফলার, ইউনাইটেড পাওয়ার, ফরচুন সুজ, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও আইটিসি।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- সি পার্ল, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড, কে অ্যান্ড কিউ, ফরচুন, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, নাভানা সিএনজি, কপারটেক, ঢাকা ইনস্যুরেন্স ও আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- রিলায়েন্স ওয়ান, গ্রামীণ ওয়ান স্কীম ২, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইএফআইএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১, আইসিবি থার্ড এনআরবি, আইসিবি সোনালী ওয়ান, ইউনাইটেড এয়ার, মুন্নু সিরামিক, আইসিবি অগ্রণী ওয়ান ও প্রাইম ব্যাংক ১ম আইসিবি।

এছাড়া সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ১২৯টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন