প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বেরোবিতে চলছে আমগাছ নিধন!

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২০:২৩

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো: তরিকুল ইসলামের একক নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আমগাছ কাটা হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরির পেছনে লাগানো আমগাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে দিয়ে কাটান তিনি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদের সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাক-বিতন্ডাও হয় কিছুক্ষণ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো: তরিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরির পেছনে একটি ফলের বাগান লাগানোর উদ্দেশ্যে দুটি আমগাছ কাটার জন্য এক কর্মচারীকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী কর্মচারী আমগাছ দুটি কাটেন। গাছ কাটা হলে ড. তুহিন ওয়াদুদ ঘটনাস্থলে এসে নিজের মাথা কর্মচারীর কোদালের নিকট এগিয়ে দিয়ে গাছ কাটার বদলে তার মাথা কাটতে বলেন।

ঘটনার পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বৃক্ষ নিধন। দেখার কেউ নেই। দীর্ঘ কয়েক বছর অন্যের কাছে অনুরোধ করে গাছ নিয়ে এসে নিজের সময় শ্রম অর্থ ব্যয় করে ক্যাম্পাসে ৩৩ হাজার গাছ লাগিয়েছি। কয়েকদিন ধরে চলছে সেই গাছ কাটা। আমার বুক ভেঙে কান্না আসছে। আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে বলে স্যার আপনার ৩৩ হাজার ১ টি সন্তান৷ আজ মনে হচ্ছে গাছগুলোকে আমি সন্তানের মতোই ভালোবাসি। হে দেশবাসী, প্রকৃতিপ্রেমিক গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসুন।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গাছগুলো আমাদের সম্পদ। গাছগুলোতে মুকুল আসার উপক্রম হয়েছে। এই সমযে এসে গাছগুলো কিভাবে কাটা যায় আমার বুঝে আসে না। ফলের বাগান লাগানোর জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক জায়গা আছে। এরকম একটি আমগাছ কেটে তো ফলের বাগান লাগানোর কোন দরকার হয় না।’

ঘটনাস্থলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘এরকম করে গাছগুলো কাটা ঠিক হয়নি।’

জানতে চাইলে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডরমেটরির পেছনে একটি ফলের বাগান করার জন্য গাছ দুটো কাটার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি তুহিন ভাই (ড. তুহিন ওয়াদুদ) এত কষ্ট পাবেন।’

আরও পড়ুনঃ সাভারে নারী শ্রমিক ও গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০ প্রজাতির প্রায় ৩৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ। কয়েকজনের সহযোগীতায় গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও করেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু