বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

পূরণ হয়নি এন্ড্রু কিশোরের শেষ ইচ্ছা

কোটালীপাড়ায় পৈত্রিক ভিটায় করতে চেয়ে ছিলেন ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’

কোটালীপাড়ায় পৈত্রিক ভিটায় করতে চেয়ে ছিলেন ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে কোটালীপাড়ার পৈত্রিক ভিটায় ফুফাতো ভাই এরিক অমর মজুমদার, স্ত্রী লিপিকা ও বোন শিখার সাথে সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ছবি: ইত্তেফাক

‘জীবনের গল্প আছে বাকী অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়োগো মাটি’, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন তার আপনজনেরা।

গত সোমবার (৬জুলাই) সন্ধ্যায় এই গুণী সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর সংবাদ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবস্থানরত তার আপনজনদের কাছে এসে পৌঁছালে তারাসহ উপজেলাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই টিভির সামনে বসে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যু সংবাদ শুনেছেন আর অঝোর ধারায় কেঁদেছেন। পুরোটা এলাকা জুড়ে যেন শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এই গুণী শিল্পীর এভাবে চলে যাওয়া যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এই শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে কোটালীপাড়ায় সংগীত একাডেমি বা স্কুল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে এন্ড্রু কিশোর সস্ত্রীক কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের চিথলীয়া গ্রামের পৈত্রিক ভিটায় বেড়াতে এসেছিলেন। এ সময় তিনি তার পৈত্রিক ভিটায় একটি ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’ করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার কাকাতো ভাই পূর্ণদান বাড়ৈ।

পূর্ণদান বাড়ৈ বলেন, ‘এন্ড্রু কিশোর আমার কাকাতো ভাই। তার পিতার নাম ক্ষিতিশ বাড়ৈ। এন্ড্রু কিশোররা তিন ভাই-বোন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে এন্ড্রু কিশোর ছিল সবার ছোট। তার বড় ভায়ের নাম স্বপন বাড়ৈ। বোন শিখা বাড়ৈ। আমার কাকা ক্ষিতিশ বাড়ৈর কর্মস্থল ছিল রাজশাহী। তিনি ওখানে চিকিৎসা পেশায় জড়িত ছিলেন। ওখানেই এন্ড্রু কিশোরের জন্ম। তবে তার বাবার জন্ম কোটালীপাড়ায়।

তিনি আরো জানান, এন্ড্রু কিশোরের পিতা ক্ষিতিশ বাড়ৈ বরিশালে লেখাপড়া করেছেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করে রাজশাহীতে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিবছরই কোটালীপাড়ায় বেড়াতে আসতেন।

আরো পড়ুন: দেশে একদিনে মৃত্যু ৫৫, শনাক্ত ৩০২৭

এন্ড্রু কিশোরের অপর এক কাকাতো ভাই এলিও বাড়ৈ বলেন, ‘গত ৭ মাস আগে এন্ড্রু কিশোরের সাথে আমার শেষ কথা হয়েছে। আমাদের এক কাকার মৃত্যুতে অনুষ্ঠান করার জন্য তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আমাদের যেকোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের সহযোগিতা করতেন। বিভিন্ন সময়ে ফোন করে আমাদের খোঁজখবর নিতেন। এন্ড্রু কিশোর একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ বাড়ৈ বলেন, ‘সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই এই মহান শিল্পীর নামে কোটালীপাড়ায় একটি সংগীত একাডেমি বা একটি সংগীত স্কুল স্থাপন করা হোক।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে দেশের সকল সংগীতপ্রেমীরা শোকাহত। দেশের এই মহান সংগীত শিল্পীর পৈত্রিক ভিটা কোটালীপাড়া। এটা সত্যিই কোটালীপাড়াবাসীর জন্য গর্বের। আমরা এই গুণী শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার্থে কোটালীপাড়ায় একটি সংগীত একাডেমি বা সংগীত স্কুল স্থাপনের জন্য চেষ্টা করব।’

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর গতকাল সোমবার (৬জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত