চলতি বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধকতা ছিল ‘গুজব’। এক শ্রেণির চক্র ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রপাগান্ডা চালায়। এসব মিথ্যা তথ্য পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বিভ্রান্ত করে। এসব গুজবে বিশ্বাস করে ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটতে থাকে।
শুরুর দিকে পদ্মাসেতু তৈরিতে ‘শিশুদের মাথা লাগবে’ গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। এই নিয়ে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি স্কুলে তাসলিমা বেগম রেণু নামে সহজ সরল এক নিরপরাধ নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সারা দেশকে আলোড়িত করে। শুধু নিরাপরাধ এই নারীই নয়, একইভাবে আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে গুজব রটিয়ে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ধামরাইয়ে দুইজন, মাদারীপুরে এক প্রতিবন্ধী নারী, রাজশাহীতে পাঁচ এনজিও কর্মী, কুষ্টিয়ায় এক বৃদ্ধা, বগুড়ায় শিক্ষার্থী, নাটোর এক বৃদ্ধাসহ সেসময় ১৩ দিনে সারাদেশে গণপিটুনিতে ১২ জন নিহত হয়। আহত হয় ৬৬ জন।
আরও পড়ুন: বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশে
এছাড়া বছরের শেষের দিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে হঠাত্ লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়। লবণ পাওয়া যাবে না এমন গুজবে সাধারণ মানুষ বেশি বেশি লবণ কিনতে শুরু করে। মওকা বুঝে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে দেয় ৮/১০ গুন। আর এই সংকটকে আরো গভীর করার জন্য একটি মহলের তত্পরতা লক্ষ্য করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এতে সারাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠে যে, গুজব রোধে সরকারের মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর মাঠে পর্যায়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। সরকার প্রেসনোট দিয়ে জানায়, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। লবণ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও এক মত পোষণ করে জানায়, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। তাদের হাতে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে। অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ে খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। সেসময় সারাদেশের দুই শতাধিক ক্রেতা-বিক্রেতাকে আটক করা হয়। অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামাসহ একের পর এক অঘটন ঘটানো হয়, গুজব পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠে যে, গুজব রোধে সারাদেশে তত্পর করা হয় নিয়মিত ও অনিয়মিত ৬১ লাখ আনসার সদস্যকে। সেই সঙ্গে সতর্ক ছিল সরকারের অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুজবকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের সাত মাসেই ৬৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৪০টি মামলা হয়।
ইত্তেফাক/এএএম

