ঈদে মৃত্যুদূত হয়ে বাড়ি যাবেন না : আইজিপি

ঈদে মৃত্যুদূত হয়ে বাড়ি যাবেন না : আইজিপি
রাজারবাগে পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বিফ্রিংয়ে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি : ইত্তেফাক

আসন্ন ঈদে করোনার ঝুঁকি নিয়ে ‘মৃত্যুদূত’ হয়ে বাড়ি না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। যারা শপিংমলে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ভিড় করছেন তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনে রাখবেন যেন এটাই জীবনের শেষ শপিং না হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগে পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাঈনুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি আবুল খায়ের বক্তব্য রাখেন।

আইজিপি বলেন, ‘পাঁচ-দশ দোকান ঘুরে ঘুরে এক দোকানে শপিংয়ের যে কালচার আমাদের আছে সেটা পরিহার করাই ভালো। অল্প সময়ের মধ্যে একটি দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসটি কিনে দ্রুত ঘরে ফিরে যান। করোনা কিন্তু কোনো জুজুর ভয় নয়। এটা বৈশ্বিক বাস্তবতা। আমরা যদি এগুলো মেনে চলি তাহলে বৈশ্বিক এই দুর্যোগ থেকে জাতিকে, দেশকে, জনগণকে রক্ষা করতে পারব।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিরুদ্ধে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে শহরে হোক, গ্রামে হোক, কেউ আনন্দ ফুর্তি করতে বের হবেন না।’

আরো পড়ুন : নানা কৌশলে ঘরমুখী মানুষ

পুলিশ কেন কঠোর হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, সরকার দেশের মানুষের জন্য যা ভালো সেটা করছে। দেশে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। সরকারকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পুলিশের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পরিকল্পনায় কোনো ভুল ছিল কি না? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, এখনো করছে। যেখানে লাশের কাছে পরিবারের কেউ যেতে চায়নি, সেখানে পুলিশ গিয়েছে। এ রকম হলে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, ‘মানুষ নিজে সংশোধন না হলে শুধু পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজ করে যাচ্ছে, এখন আমাদের শোধরাতে হবে। আমরা বাজার করতে যাচ্ছি, অথচ করোনা লক্ষণ নিয়ে পরিবারের সদস্য মারা গেলে লাশ নিতে ভয় পাচ্ছি। রাস্তায় লাশ ফেলে যাচ্ছে স্বজনরা। সেখানে পুলিশ সেই লাশ নিয়ে জানাজা পড়িয়ে দাফন করছে। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানাই।’

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x