ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে জনবল কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি পিআইওদের

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে জনবল কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি পিআইওদের
ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো (অর্গ্রানোগ্রাম) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও) করোনাসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কিন্তু তাদের প্রয়োজনের তুলনায় জনবল সংকট রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

তিনি জানান , মুজিববর্ষ উপলক্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার প্রদান তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও) দিন-রাত কাজ করে তৈরি করেছেন। জীবন বাজি রেখে দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীনদের মুখে হাঁসি ফোটাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও)। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে তাদের প্রয়োজন মতো জনবলসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি। যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবেদ বলেন, করোনার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে অধিদফতর থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত জিআর চাল, নগদ অর্থ ও শিশু খাদ্য উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বরাবর উপবরাদ্দ প্রদান করা হয়। অতঃপর অপারেশন ম্যানুয়াল অনুসারে ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে কর্মজীবী কর্মহীনদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ বাস্তবায়ন করছি। আর তা যেন সঠিকভাবে বিতরণ হয় এজন্য পিআইওদের সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কার্য সম্পন্ন করতে হয়। উপকারভোগীরা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমরা যে সকল কাজ বাস্তবায়ন করছি তা সুপারভিশনের জন্য আরও জনবল প্রয়োজন। যে কোন কাজ যত বেশি পরিদর্শন করা হবে ততবেশি কাজের মান ও অগ্রগতির হার সন্তোষজনক হবে। তাই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রামটি) বাস্তবায়ন হলে জনবল সংকট কাটিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি জনবান্ধব কাজ আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করা সহজ হবে। কারণ এই মন্ত্রণালয় যে সমস্ত কাজ বাস্তবায়ন করেন তার সবগুলোই সামাজিক নিরাপত্তামূলক, সামাজিক উন্নয়নমূলক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম। তাই জনবল কাঠামো দ্রুত অনুমোদন হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো এক হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর গঠিত হয়। ওই আইনে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতি দ্রুত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একজন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একাধিক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপসহকারী প্রকৌশলী (প্রকল্প) ভাইরাসে আক্রান্ত। তাই করোনা মোকাবেলায় অতি দ্রুত জনবল কাঠামো বাস্তবায়ন চান তিনিও।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর যে সকল কাজ বাস্তবায়ন করে যেমন সামাজিক নিরাপত্তাসমূহ গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্করণ (কাবিখা), সোলার প্রকল্প, দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি, এছাড়া বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, মুজিব কেল্লা নির্মাণ, জেলা ত্রাণ গুদাম নির্মাণ, মাটির রাস্তাসমূহ টেকসই করণের লক্ষে হেরিং কোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্প। তা ছাড়াও মানবিক সহায়তা কর্মসূচি যেমন- জিআর চাল বিতরণ, জিআর নগদ অর্থ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, টেউটিন গৃহ নির্মাণ বাবদ নগদ অর্থ বিতরণ। যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় অত্র অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা দিতরাত কাজ করে থাকেন ফলে অতিসত্বর দুর্যোগ ব্যবস্থা অধিদপ্তরসহ মাঠ পর্যায় জনবল কাঠামো বাস্তবায়নের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোহসিন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের জনবল কাঠামো (অর্গ্রানোগ্রাম) বাস্তবায়ন খুবই প্রয়োজন । ইতিমধ্যে আমরা জনবল কাঠামো (অর্গ্রানোগ্রাম) অধিদপ্তর হতে অনুমোদন দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি, আশা করি সরকার এটাকে গুরুত্ব দিবে।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৪ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন