সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়

এতে সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হয় : শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা
সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়
নিহত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিয়ে কোনো মহলের উসকানিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়। এতে সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত আছে দাবি করে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে একটি মহল পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী প্রধান ও পুলিশ বাহিনী প্রধানের এক সঙ্গে বিবৃতি দেওয়ার পর কোনো মহলের উসকানিমূলক বক্তব্য ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার শামিল।

পুলিশের গুলিতে সিনহার মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বুধবার কক্সবাজারে বিরল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ বক্তব্য তুলে ধরেন। দুই বাহিনীর প্রধান একমত হন যে, ‘এই ঘটনার জন্য কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়, ব্যক্তি দায়ী। দোষী যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’ দুই বাহিনী প্রধানের এমন বক্তব্যের পরও কেন বিভিন্ন মহল থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্ন রেখে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, এ ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা হয়েছে। আসামিরা গ্রেফতার হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হবে। এটা নিয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য প্রদান না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তারা।

যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মর্মাহত। তদন্ত কমিটির ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের আস্থা আছে। এ ঘটনার দায় ব্যক্তির, কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। সিনহার মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চায় সেনাবাহিনী। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি যৌথ তদন্ত দল গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মাকে ফোন করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তার কথার ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আস্থা আছে।’ এ ঘটনা নিয়ে যেন সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত চিড় ধরানোর মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন সেনাপ্রধান।

আরও পড়ুন: স্থবির ব্যবসায়-বাণিজ্যে গতি ফিরছে না শিগিগর

আর পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করে। এ ঘটনা নিয়ে অনেকে উসকানিমূলক কথা বলার চেষ্টা করছেন। যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। কোনো প্রকার উসকানিতে দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। কমিটি প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। কমিটি যে সুপারিশ দিবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এর আগে, বুধবার দুপুরে কক্সবাজারে যান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। এরপর দুই বাহিনীর প্রধান সেনাবাহিনীর রেস্টহাউস জলতরঙ্গে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন দুই বাহিনী প্রধান।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। এরপর ৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত দল গঠন করে। ৫ আগস্ট নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ৬ আগস্ট বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত ও ওসি প্রদীপসহ মামলার সাত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এতে র‌্যাব আদালতে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক লিয়াকত, প্রদীপ ও দুলালকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর এবং চারজন আসামিকে দুদিন করে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। এছাড়া অনুপস্থিত থাকা মামলার অপর দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে জেলা পুলিশের ভাষ্য, পলাতক এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোস্তফা নামের কোনো পুলিশ সদস্য বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র ও টেকনাফ থানায় কর্মরত ছিল না।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত