নিউ ইয়র্কে জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজে জালিয়াতি : ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

এমডিকে শোকজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানতে চেয়েছে ব্যাংকিং বিভাগ
নিউ ইয়র্কে জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজে জালিয়াতি : ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
ডলার। প্রতীকী ছবি।

একাধিক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সমালোচিত জনতা ব্যাংকের অনিয়ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশেও। জালিয়াতির কারণে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজ।

একজন রিসিপসনিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া এবং লাখ লাখ ডলারের অনিয়মের বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরে আনলে হাউজটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ থেকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু বছর গড়িয়ে গেলেও নোটিশের জবাব আসেনি, বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা হয়। কিন্তু চালুর পর প্রতি বছর পরিদর্শন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এই সুযোগে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি ঢাকায় জানাজানি হলেও অজ্ঞাত কারণে সবাই চেপে যান। প্রায় এক বছর আগে ৬ লাখ ডলারের এক অনিয়ম নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানালে বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তড়িঘড়ি করে জনতা ব্যাংক তখন এক্সচেঞ্জ হাউজটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এ নিয়ে আর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির আপডেট জানতে চাইলে আবারও আলোচনায় আসে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় ঘর থেকে তেমন কিছু খোয়া যাওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। তখন অনিয়মের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা জানাতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করে। যদিও এই নোটিশ জারি নিয়ে ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরে শোকজ করা হলেও তার জবাব আসেনি।

এরপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি অবগত ছিল না। সাধারণত, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে অবহিতকরণ এবং ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়। জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুরো প্রক্রিয়া গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্রের কারণে এ নিয়ে নতুন করে নাড়াচাড়া শুরু হয়।

জানা গেছে, শুধু নিউ ইয়র্কেই নয়, অন্যান্য এক্সচেঞ্জ হাউজ পরিদর্শন করা হয়নি বিগত বছরগুলোতে। তবে জনতা ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, নিউ ইয়র্কের ঘটনার পর ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বাইরের শাখা বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো পরিদর্শন করবে। করোনার কারণে তা শুরু করা যায়নি।

এদিকে জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজে অনিয়মে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিসিপসনিস্ট পদমর্যাদার একজনকে কেন পুরো হাউজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পরিচয় বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে জনতা ব্যাংক অনিয়ম-দুর্নীতিতে টালমাটাল হয়ে গেছে। বিসমিল্লাহ, এ্যাননটেক্সসহ ঋণ জালিয়াতির বহু ঘটনা ঘটেছে এই ব্যাংকে। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পুরো ব্যাংকেরই আরো নিবিড় পরিদর্শন করা প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/আরআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত