নানা অঙ্গীকার নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০৩:২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বাকি আর কয়েকদিন। ইতোমধ্যে ডাকসু এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজেদের প্যানেলের জন্য ভোট চাইছেন। ভোটে জিতলে ডাকসু এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে সাজাবেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কি করবেন তা উল্লেখ করে ভোটারদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করছেন নারী প্রার্থীরাও। ছাত্র হলগুলোর পাশাপাশি ছাত্রী হলগুলোতেও চলছে নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থীরা হলের রুমগুলোতে গিয়ে গিয়ে জনসংযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন।

এদিকে ছাত্রী হলগুলোতে বিভিন্ন সংগঠনের দেয়া প্যানেলের বাইরে ডাকসুর কেন্দ ীয় সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থীতা করছেন মাত্র ২৫ জন নারী শিক্ষার্থী। কেন্দ ীয় সংসদে বিভিন্ন পদে সর্বমোট ২৩৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম বলে মনে করছেন অনেকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত নারী প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় ইশতেহার অনুযায়ি আশ্বাস দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীরাও শিক্ষার্থীদের ভোট পাওয়ার জন্য দিচ্ছেন নানা অঙ্গীকার।নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচাইতে বেশি রয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলে। হল সংসদ এবং কেন্দ্রীয়  সংসদ মিলে ছাত্রলীগের প্যানেলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সর্বমোট ২৫ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের মধ্যে ছয়টি পদে নারী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি এবং সদস্য পদে রয়েছেন সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভিন, নিপু ইসলাম তন্বী, তিলোত্তমা শিকদার।

এর বাইরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সহ-সভাপতি পদে কোহিনুর আক্তার রাখি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সারা বিনতে জাহান, রোকেয়া হল সংসদের সহ-সভাপতি পদে ইশরাত জাহান তন্নী ও সাধারণ সম্পাদক পদে সায়মা প্রমি, শামসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি পদে জেসমিন শান্তা ও সাধারণ সম্পাদক পদে উম্মে আরাফাত জাহান লাকি, সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সভাপতি পদে ইসরাত জাহান ইভা ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহরিয়ার সুলতানা নদী, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের সহ-সভাপতি পদে রাজিয়া সুলতানা কথা ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাওলীন জাহান সেজুতি ছাত্রলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

ছাত্রলীগের নারী প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রলীগের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং গত কয়েকবছরে ক্যাম্পাসে নিজেদের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলে ভোট চাইছেন। এর বাইরে মেয়েদের হলগুলোর জন্য অতিরিক্ত বাস নিশ্চিতকরণ, কমনরুম এবং ক্যাফেটেরিয়ায় উন্নত পরিবেশ তৈরি, মেয়েদের হলগুলোতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে আসন বন্টন এবং হলগুলোর অভ্যন্তরীন পরিবেশ উন্নত করবেন বলে শিক্ষার্থীদের কাছে অঙ্গীকার করছেন।

জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের প্যানেলে নারী প্রার্থী আছেন মাত্র একজন। তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থী কানেতা ইয়ালামলাম। তিনি ডাকসু কেন্দ্রীয় সংসদের কমনরুম এবং ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন। এর বাইরে নারী হলগুলোতে ছাত্রদল প্যানেল দিয়েছে শুধুমাত্র শামসুন নাহার হলে। এ হলে ভিপি পদে লড়ছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মানসুরা আলম। ছাত্রদলের প্রর্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নির্বাচিত হলে নারী হলগুলোতে প্রশাসনের দখলদারি মনোভাব এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের গেস্টরুম প্রথা ইত্যাদির বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রীদের অধিকারে কাজ করবেন। এছাড়া হলে অবৈধভাবে ছাত্রী তোলা, রুম দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আবাসন সংকট নিরসনে উদ্যেগ নিবেন। এর বাইরে হল লাইব্রেরির পরিসর বাড়ানো এবং হলে উন্নতমানের ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতকরণের বিষয়েও উদ্যেগ নিবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর বিভিন্ন প্যানেলে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা হলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য এবং প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী উম্মে হাবীবা বেনজীর, জাসদ ছাত্রলীগের প্যানেলে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শিরিন আক্তার। হাসানুল হক ইনু সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে শাফিকা রহমান শৈলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মনিরা ইসমাইল মীম, সাহিত্য সম্পাদক ইশরাত জাহান। প্রগতিশীল ছাত্রজোট থেকে সদস্যপদে আফনান আক্তার ও মনীষা আখতার। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সানজীদা বারী, কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া সম্পাদক এমিলি শেখ রয়েছেন। এসব প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা শিক্ষার্থীদেরকে একটি ভয়-ভীতিহীন শিক্ষার পরিবেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম-অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এবং বামজোটের বাইরে ডাকসুতে আরো কয়েকজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এরাও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: কাশ্মীর সীমান্তে ফের গোলাগুলি, দুই পাক সেনাসহ নিহত ৭

কোটা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য প্রার্থী হয়েছেন শেখ এমিলি জামাল ও উম্মে কুলসুম বন্যা। ছাত্র মুক্তিজোটের প্যানেলে কেন্দ্রীয় সংসদের কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক সুমাইয়া ইয়াসমিন স্মৃতি, সমাজসেবা সম্পাদক নওরিন আক্তার নিশাত, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে জাকিয়া সুলতানা এবং সদস্য পদে মোছা. রহিমা খাতুন সাদিয়া আফরিন তৃষ্ণা। এছাড়া স্বতন্ত্রজোটের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অরণি সেমন্তি খান, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে শ্রবণা শফিক এবং সদস্য নহলি নাফিসা খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে শামসুন নাহার হলে স্বতন্ত্রভাবে সহ-সভাপতি পাদে লড়ছেন শেখ আফরোজা ইমি। এসব প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা নির্বাচিত হলে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন। এছাড়া নারী হলের শিক্ষার্থীদেরকে দলীয় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্তি দিতে চান বলে স্বতন্ত্রজোটের প্রার্থীরা জানান।

ইত্তেফাক/আরকেজি