ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সঙ্গে আমি একমত নই: মির্জা ফখরুল

জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সঙ্গে আমি একমত নই: মির্জা ফখরুল
জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল। ছবি: ফোকাস বাংলা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ থাকে, কৌশল থাকে, আন্দোলন বলতে শুধু হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও না। আমি এই বিষয়টার সঙ্গে একমত হতে পারি না। আমরা আন্দোলন বলতে বুঝি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার হওয়া। তার জন্য আমরা কাজ করছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বেগম খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে আমরা সক্ষম হব।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি একান্তই খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্ত। এটা দলের কোনো বিষয় নয়। সুতরাং এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি জানিয়ে ফখরুল বলেন, এটাকে তো আমরা নির্বাচিত বলছি না, আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাহলে সংসদে যাওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন?

শোনা যাচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি সংসদে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মো. নেছারুল হক, সদস্য সচিব নজরুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরো পড়ুন: তৃণমূলের পক্ষে ভোটের প্রচারণায় নায়ক ফেরদৌস

বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ নববর্ষের দিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির তিন নেতা। পরে সাংবাদিকদের কাছে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। উনি খেতে পারছেন না এখনো। এখনো তিনি পা বেন্ড করতে পারেন না। তার বাম হাত সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। অর্থাৎ বাম হাতটায় কাজ করতে পারছেন না। এই অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ আছেন। আগের চেয়ে খুব বেশি ইম্প্রুভ করেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। বার বার যেটা বলেছিলাম যে, তার স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট দরকার সে ট্রিটমেন্ট এখনো শুরু হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। আজকেও আমরা বলছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো হোক। এটা জরুরি। কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডাম দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বলেছেন যে, দেশবাসী যেন সচেতন হয় এবং এরজন্য কাজ করে।

বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকে প্রবেশ করেন। বিকেল ৫টায় তারা বেরিয়ে আসেন।

গত ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া এই ব্লকের ৬ তলায় ৬২১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই হাসপাতালে আসার পর এটিই নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাৎ।

সাক্ষাতের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম তাঁর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করার জন্য। তো আমাদেরকে এর আগে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনেকদিন পর বাংলা নববর্ষে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সীমিত পরিসরে আমরা তিনজন দেখা করার অনুমতি পেয়েছি। এ সময় মূলত তার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও তার মামলার আইনগত দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী দলের খোঁজখবর নিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে ও জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে বলেছেন।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন