ঢাকা শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


সমাধান হওয়া ইস্যু হালে পানি পাবে না: ঐক্যফ্রন্টকে ড. হাছান মাহমুদ

সমাধান হওয়া ইস্যু হালে পানি পাবে না: ঐক্যফ্রন্টকে ড. হাছান মাহমুদ
সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে দেশের ক্যাবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার লক্ষ্যে আয়োজিত সভা। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ঐক্যফ্রন্টের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘যে ইস্যু সমাধান হয়ে গেছে সে ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমে হালে পানি পাবেন না।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে দেশের ক্যাবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার লক্ষ্যে আয়োজিত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট আবরার হত্যা নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে, কিন্ত এটি আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের জন্য নয়, বরং নিজেদের রাজনীতি করার স্বার্থেই। যেকোনো ইস্যু নিয়ে তাদের ঐক্যটা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এই সভা মূলত: ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ধরে রাখার একটি চেষ্টা। তাদের স্বার্থে তারা এই সভা আহ্বান করেছে। আমি ঐক্যফ্রন্টকে বলবো, যে ইস্যু সমাধান হয়ে গেছে, সেই ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমে হালে পানি পাবেন না।’

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে প্রচণ্ড অনৈক্য। আবরার হত্যা নিয়ে তারা একটু ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আবরার হত্যার পর সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপদ যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে।’

‘ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল না হওয়ার কারণে সম্প্রচার সঠিকমতো হয় না, একইসঙ্গে সরকার অনেক রাজস্ব হারাচ্ছে’ যুক্তি তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। কিন্তু ক্যাবল নেটওয়ার্ক এখনো ডিজিটাল হয়নি। এটিকে অবশ্যই ডিজিটাল করতে হবে। আমরা এই বিষয়ে সময়সীমা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ক্যাবল নেটওয়ার্ক যারা পরিচালনা করেন তারা একটি সময়সীমার মধ্যে পুরো ক্যাবল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পূর্বসভার ধারাবাহিকতায়ই আজকের সভা।’

সম্প্রচার অঙ্গনে শৃঙ্খলা আনতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বহু অনিয়ম ছিল, সেগুলো দূর করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষত: সম্প্রচারের ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সিরিয়ালগুলো মানা হতো না। দেখা যেত যে বিদেশি টেলিভিশনে সিরিয়াল আগে এরপরে বাংলাদেশি টেলিভিশনের সিরিয়াল। বারবার নির্দেশনা দেয়ার পরও অতীতে বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিরিয়াল কোনোভাবেই মানা হচ্ছিল না।’

‘কয়েকমাস আগে টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন-এটকো’র সাথে আলোচনা করে টিভি চ্যানেলগুলো স¤প্রচার শুরুর তারিখ অনুযায়ী ক্রম ঠিক করে সেটি কেবল অপারেটরদেরসহ সম্প্রচারের সাথে যুক্তদেরকে দিয়ে সেটি মানার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল’ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একইসাথে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করি। তারপর এখন বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, শতকরা ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রে এই সিরিয়াল মানা হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গা ব্যত্যয় হলেও সেগুলোতে আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি এবং করবো।’

আরো পড়ুন: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব কার্যালয়ে সম্রাট-আরমান

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে দেশের শিল্পী, দেশের টিভিকে প্রধান্য দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের ওপরই চলে। এবং আমাদের দেশে এখন ৩৩টি টেলিভিশন চ্যানেল স¤প্রচারে আছে, ৪৫টির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এবং এই টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এখানে শত শত নয় কয়েক হাজার সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এগুলোর সাথে যুক্ত। শুধু সাংবাদিক, সংবাদকর্মীই নয়, এরসাথে আরো নানাবিধ ব্যবসাও যুক্ত। যেটি আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

ড. হাছান বলেন, ‘কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি যে, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয়, অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল, বিদেশি বিজ্ঞাপন তো আছেই। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কোন ধরণের বিজ্ঞাপনেই বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শিত হতে পারে না। আমরা এই নির্দেশনা জারি করার পর, আইনটি মনে করিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার বন্ধ হয়েছে।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি অনেক বিত্তবান পরিবারেও দেখা যাচ্ছে, অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ লাগিয়ে সেগুলোর মাধ্যমে দেশি এবং বিদেশি চ্যানেল দেখার এবং প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। বিদেশি কোনো ডিটিএইচকে বাংলাদেশে স¤প্রচার করার জন্য সরকার অনুমতি দেয়নি। এর জন্য হুন্ডি হয়ে বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে এই খাতে পাচার হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই নির্দেশনা জারি করেছি যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ সরিয়ে নিতে হবে। যারা এগুলো লাগিয়েছেন এবং যারা ব্যবহার করছেন, দু’পরে ওপরই এই দায়িত্ব বর্তায়। এরপর আমরা যেখানে এই অবৈধ সংযোগ পাবো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বেক্সিমকো কমিউনিকেশন লিমিটেড, যাদু ভিশন লিমিটেড এবং ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিনিধিবৃন্দ ও ক্যাবল অপারেটরস এসোসিয়েশন অভ্ বাংলাদেশ-কোয়াবের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সরকার নিযুক্ত কোয়াব প্রশাসক মোস্তফা জামাল হায়দার সভায় অংশ নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যসচিব আবদুল মালেক, অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুল করিম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন