বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তার শিক্ষক তাকে বেত্রাঘাত করে। পরদিন নিজ বাসায় শিশুটির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা স্কুলশিক্ষককে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষকের মারধরের অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে শিশুটি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এত ছোট শিশু আত্মহত্যা করতে পারে কি না, এ ব্যাপারে অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির মায়ের অভিযোগের তীর সতীনের দিকে। ঘটনার পর থেকে ঐ শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে খাজুরিয়া গ্রামের দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমি দীর্ঘদিন বন্ধের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর মাসিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার ঐ পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান নোহা অকৃতকার্য হওয়ায় স্কুলশিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন নোহাকে ক্লাসরুমে বেত্রাঘাত ও গালমন্দ করেন। সহপাঠীদের সামনে শিক্ষকের মারধর ও গালমন্দ সইতে না পেরে অভিমানে বুধবার দুপুরে নোহা নিজেদের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে নোহার মা তানিয়া বেগম ও প্রতিবেশীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নোহার বাবা সুমন মিয়া বর্তমানে চার নম্বর স্ত্রী নিয়ে সংসার করছেন। নোহা ঐ পরিবারে সত্-মাসহ সবার কাছে চক্ষুশূল ছিল। ঢাকায় বসবাসকারী সুমন মিয়ার সাবেক স্ত্রী তানিয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে নোহাকে সতীন ও শ্বশুর-শাশুড়ি বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পরে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তার প্রশ্ন, অতটুকু মেয়ে কীভাবে ওড়না ও গামছা জোড়া লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিতে পারে? নোহার মৃত্যুর পেছনে পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি জানা যাবে।

