ইত্তেফাক রিপোর্ট
গত বছর ২০২০ সালে বড় সংকোচনের পর এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিশ্বব্যাপী করোনার ভ্যাকসিন অনুমোদনের ফলে অর্থনীতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে; কিন্তু করোনার ভিন্ন প্রকরণ এবং নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ রয়েই গেছে। এ রকম ভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তার পরে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। গতকাল প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গত অক্টোবরের পূর্বাভাসের চেয়ে শুন্য দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে এবারের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যদিও গত বছর (২০২০) বিশ্ব অর্থনীতি সাড়ে ৩ শতাংশ সংকোচন হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের জোর দেওয়ায় বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বেড়েছে। তাছাড়া করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নীতিসহায়তা দেওয়ায় অর্থনৈতিক পুনরুত্থানে গতি পেয়েছে। ভ্যাকসিন-কার্যক্রম দ্রুততর হলে অর্থনৈতিক গতিশীলতাও বাড়বে। বিশেষ করে ভ্যাকসিনের সহজলভ্য এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। করোনার প্রভাব যদি দীর্ঘায়িত হয় সেক্ষেত্রে অনেক দেশ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের উন্নয়নশীল বহু দেশে ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। আর্থিক সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোকে ঐ সব দেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, করোনার নতুন ধাক্কা যদি বাড়তে থাকে, ভ্যাকসিন কার্যক্রম যদি বিলম্বিত হয় অথবা সঠিকভাবে বণ্টিত না হয় সেক্ষেত্রে অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে অঞ্চলভিত্তিক বড় দেশগুলোর পূর্বাভাস তথ্য দেওয়া হয়েছে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর এ বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের অর্থনীতি গত বছর ৭ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর এ বছর ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এ বছর চীনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতে গত বছর ৮ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর এ বছর সাড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে। গত বছর সারা বিশ্বে বাণিজ্যের আকার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর এ বছর ৮ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম গত বছর ৩২ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। এ বছর গড়ে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

