সাফল্য-বিতর্কে সাকিবের বছর

সাফল্য-বিতর্কে সাকিবের বছর
সাকিব আল হাসান। ছবি- সংগৃহীত।

২০১৯ সালকে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে সাকিব আল হাসানের বছর বললে ভুল হয় না। এই বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তিনটি ঘটনার কেন্দ্রেই ছিলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপে অতিমানবীয় হয়ে উঠেছিল তার ব্যাট-বল। সেই সাকিবই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ক্রিকেট ধর্মঘটের। আবার বছরের শেষ দিকে সেই সাকিব আল হাসানই নিষিদ্ধ হয়েছেন ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন রাখার অভিযোগে।

সাকিবময় এই বছরে ছিল আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

প্রথম ট্রফি জয়

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলাটা নতুন কিছু নয়। এই বছরের আগেই পাঁচটা সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ট্রফিটাতে কিছুতেই হাত ছোঁয়াতে পারছিল না তারা। কখনো দুই রানে, কখনো এরকম সামান্য ব্যবধানে ফাইনাল হারের কষ্ট পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে। অবশেষে সেই অধরা ট্রফি এবার ধরা দিল আয়ারল্যান্ডে গিয়ে।

বিশ্বকাপের আগে আগে আয়ারল্যান্ডে একটা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলল বাংলাদেশ—আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ ছিল লড়াইয়ে। প্রবল প্রতাপে বাংলাদেশ উঠে এলো ফাইনালে। আর সেখানে শুরু হলো নাটকীয়তা। বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ডই হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২৪ ওভারে ২১০ রানের এক টার্গেট দাঁড়াল বাংলাদেশের সামনে। ৬৬ রান করে ভিত গড়ে দিলেন সৌম্য সরকার। আর ২৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এনে দিলেন জয়।

এই বছর আরো একটা ট্রফি ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল পরিত্যক্ত হয়। ফলে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় টুর্নামেন্টে।

সাকিবের বিশ্বকাপ

অবিশ্বাস্য এক বিশ্বকাপ কাটালেন সাকিব আল হাসান।

এই বিশ্বকাপের আগে প্রবল পরিশ্রম করে কমিয়েছিলেন ওজন, বাড়িয়েছিলেন ফিটনেস। তাকে নিয়ে কিছু বিতর্কও চলছিল। সবকিছু উড়িয়ে দিলেন বিশ্বকাপে এসে। এই টুর্নামেন্টে ৬০৬ রান করলেন; যা টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে নিলেন ১১ উইকেট।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আর কখনো দেখা যায়নি। এই টুর্নামেন্টে একই খেলোয়াড়ের ৪০০ রান করা ও ১০ উইকেট শিকার করারই কোনো নজির এর আগের নেই। সেখানে সাকিব মাইলফলকটাকে নিয়ে গেলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর পাশাপাশি এই ম্যাচে ফিফটি করা ও পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তিও করলেন সাকিব।

গোলাপি টেস্ট

বেশ কয়েক বছর হলো দিবারাত্রির টেস্ট শুরু হয়ে গেছে দুনিয়ায়। বাকি ছিল কেবল ভারত ও বাংলাদেশ। এই দুটি দল এই বছরের আগে কখনো গোলাপি বলের টেস্ট খেলেনি। ভারত এর আগে প্রস্তাব পেয়েছিল। কিন্তু তারা তখন রাজি ছিল না।

এবার সৌরভ গাঙ্গুলি ভারতের বোর্ড সভাপতি হওয়ার পরই বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেন ইডেন গার্ডেন্সে দিবারাত্রির টেস্ট খেলার। বাংলাদেশ রাজি হলে শুরু হয়ে যায় এক মহা উত্সবের। গোলাপি রং ধারণ করে কলকাতা। কিন্তু এই টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাটা সুখের হলো না।

দিল্লি জয়

ভারতের মাটিতে কোনো ফরম্যাটেই ভারতের বিপক্ষে এর আগে কখনো জয় ছিল না বাংলাদেশের। অবশেষে এ বছর সফরের শুরুতেই কাটল গেরো। বাকি সফরটা খুব খারাপ গেলেও দিল্লিতে প্রবল দূষণের মধ্যেই ভারতকে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশে

আগে ব্যাট করে ভারত করেছিল ১৪৮ রান। জবাবে মুশফিকুর রহিমের ৬০ রানে দারুণ এক জয় পায় বাংলাদেশ।

দক্ষিণ এশিয়ার স্বর্ণ

নেপালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের স্বর্ণ জেতাটা বাধ্যতামূলক ছিল। ছেলেদের ও মেয়েদের দুই বিভাগেই বাংলাদেশ দল ছিল এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। সেই কথাটা বাংলাদেশ রাখতে পেরেছে। দুটি দলই গেমস ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণ জেতে।

টেস্টের ব্যর্থতা

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে কিছু সাফল্য আছে এই বছরটায়। কিন্তু টেস্টে একেবারে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স ছিল বছরটায়। এই বছরে বাংলাদেশ পাঁচটি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে চারটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে তারা। দুটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং দুটি ভারতের বিপক্ষে। এছাড়া বাকি টেস্টটি ছিল আরো লজ্জার।

এই বছরে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলে ২২৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে!

নিষিদ্ধ সাকিব

সাকিব আল হাসান বছরটাকে সাফল্য ও নেতৃত্ব দিয়েই রাঙিয়ে রাখতে চলেছিলেন। কিন্তু অক্টোবরে এসে বজ্রপাত হলো যেন। আইসিসি জানাল, দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ সাকিব; এর মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত।

সাকিবের বিপক্ষে অভিযোগ ছিল, তিনি বাজিকরদের সঙ্গে আলাপের কথা নিয়ম অনুযায়ী আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানাননি। আইসিসি দাবি করেছে, সাকিব তিন বার এক বাজিকরের সঙ্গে আলাপ করার পরও সেটা গোপন রেখেছিলেন।

ইত্তেফাক/এসইউ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত