বাঘায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন ও সহযোগী গ্রেফতার

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৫

রাজশাহীর বাঘায় নাজমুল হক নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সুমন আলীকে(২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। পরে অপর আসামি পিন্টু আলী (২৭)কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুমন আলী নাটোরের লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের আরজেদ আলী ভোলা প্রামানিকের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭ সদস্যরা চট্রগ্রামের এফএসআরসিটি দীঘি নালার সেনানিবাস থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে লালপুর থানা পুলিশ এ মামলার ৭ নং আসামি পিন্টু আলীকে গ্রেফতার করে বাঘা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ সম্প্রতি জেলার বাঘায় ইভটিজিং এর ঘটনায় চট্রগ্রামের এফএসআরসিটি দীঘি নালার সেনানিবাস থেকে এ মামলার প্রধান আসামি সুমনকে আটক করেন। পরে তারা রাজশাহী র‌্যাব-৫ কে জানায়। এরপর র‌্যাব-৫ বাঘা থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করেন। এ ছাড়াও এ মামলার ৭ নং আসামি পিন্টু আলীকে বৃহস্পতিবার সকালে নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ আটক করে ।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য চূড়ান্ত মনোনীত হওয়ার পর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রতিবেশী স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করতো। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত ১৪ তারিখ সন্ধ্যায়  সুমন সহ তার লোকজন স্কুল ছাত্রীর বাবা, ভাই ও মামাকে মারপিট করে। এর মধ্যে মামা নাজমুল হক(৩৫)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই হাতে কোপ দিলে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তিনি মারা যায়। 

ওসি আরও জানান, সুমন বুধবার বিকেলে তার কর্মস্থল চট্রগ্রামের এফএসআরসিটি দীঘি নালার সেনানিবাসে যোগদান করতে গিয়ে ছিলো। কিন্তু বিষয়টি সেনা কর্মকর্তারা আগে থেকে অবগত থাকার কারণে তারা র‌্যাবকে জানায়। পরে সেখান থেকে র‌্যাব সুমনকে গ্রেফতার করে। সেই সাথে বুহস্পতিবার সকালে তার বন্ধু পিন্টু আলীকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে লালপুর থানা পুলিশ। 

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গুলি উদ্ধার

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি নবম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা মামা নাজমুল হোসেনকে (৩০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সুমনসহ তার লোকজন। এই ঘটনায় মামলার এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখ আরও ৫ জনকে অজ্ঞাত করে নিহত নাজমুল হোসেনের বাবা আজিজুর রহমান বাদি হয়ে বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ওইদিন রাতে দুই নারীসহ ৬ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ সুমন ও পিন্টু আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
 
ইত্তেফাক/আরআই