উত্তর জনপদের সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার গ্রাম চর নুরনগর। গ্রামটির চার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ফুলজোড় নদী। চর নুরনগর গ্রামে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ বসবাস করলেও চরের জমিতে ফসল ফলেনা বললেই চলে। ফলে কৃষি কাজ বাদে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার মানুষ। তবে সেই চিত্রটি এখন পাল্টে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে এই গ্রামের কৃষকেরা চরে বিভিন্ন ফসল চাষে করে এখন অনেকটাই সফল।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চর নুরনগর গ্রামের চরের প্রায় একশ বিঘা অনাবাদি জমি ফসল চাষের আওতায় আনা হয়েছে। চরের জমিতে ভুট্টা চাষে কৃষকদের প্রণোদনার পাশাপাশি রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত চীনা বাদাম, ভুট্টা চাষে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে চরের কৃষকেরা বিভিন্ন ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। চরের মাটিতে বর্তমানে চীনা বাদাম, ভুট্টা, তিল, মুগ ডাল, খেসারি ডাল, মাসকলাই প্রভৃতি ফসলের চাষ হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকও খুশি।
চর নুরনগর গ্রামের কৃষক লিটন সেখ জানান, আগে এই চরের কোনো ফসলের চাষ করি নাই। কৃষি অফিসের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পর চরের কৃষকেরা বিভিন্ন ফসল চাষ করে সফলতা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারী খাল দখল করে পুকুর খনন
কৃষক মিলন মণ্ডল জানান, এই এলাকার প্রায় পাঁচশ কৃষক চরে ফসলের আবাদ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, চর নুরনগর গ্রামের চরের জমিতে তেমন কোনো ফসল চাষ হতো না। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষি প্রণোদনা, রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী বাস্তবায়নসহ উপজেলা পরিষদের এডিপি খাত থেকেও ফসল চাষে তাদের বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চরের জমি গুলোর ফসলের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কৃষকদের বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসি

