সিলেট-২: ফুরফুরে মহাজোটের এহিয়া, ইলিয়াসপত্নীর প্রার্থীতা স্থগিত

সিলেট-২: ফুরফুরে মহাজোটের এহিয়া, ইলিয়াসপত্নীর প্রার্থীতা স্থগিত
মহাজোটের প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া এবং বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদী লুনা। ছবিঃ সংগৃহীত।

২০০১ সালে ওসমানীনগরকে থানা ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২ জুন ওসমানীনগরকে উপজেলা ঘোষণা করা হয়। তারপর এবার প্রথমবারের মতো ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন। স্বাতন্ত্রিক উপজেলা হিসেবে ওসমানীনগর উপজেলাবাসী প্রথমবারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

সিলেট-২ আসন হিসেবে ঘোষিত এই আসনটির বাসিন্দারা আগে বালাগঞ্জ উপজেলার অধীনে ছিলো।

উপজেলায় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই ফাঁকা। প্রতীক বরাদ্দের পর দশ দিন অতিবাহিত হলেও এখানে নির্বাচনী আমেজ নেই বললেই চলে। ভোটাররাও রয়েছেন নীরব। তাদের মধ্যে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় ওসমানীনগরে এবারও সুনসান নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া নানাবিধ কারণে বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদী লুনার প্রার্থীতা উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত করায় নির্বাচনী মাঠ অনেকটা নীরব রয়েছে। তাই এখানে অন্যান্য প্রার্থীরা ঢিলেঢালা প্রচারণা চালালেও জমছে না নির্বাচনী আমেজ।

জানা গেছে, এই উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৪শ ৬৭ জন। পুরুষ ১ লাখ ৯ হাজার ৭শ ৯৮ ও নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৬শ ৬৯ জন। ৩০ডিসেম্বর ৫৩টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ ২৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৮ হাজার ৪শ ৯ ও মহিলা ভোটার ৬৭ হাজার ৫শ ১৯ জন।

এদিকে সিলেট-২ আসনে ১৯৫৪ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে আবদুল হামিদ, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে জেনারেল এমএজি আতাউল গণি ওসমানী, ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি আতাউল গণি ওসমানী, ১৯৭৫ সালের ৭ মার্চ উপ-নির্বাচনে বাকশাল থেকে আশরাফ আলী, ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বীরবিক্রম এনামূল হক চৌধুরী, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১৯৯১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এম ইলিয়াস আলী, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শাহ আজিজুর রহমান, ২০০১ সালের ১ অক্টোরব ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এম ইলিয়াস আলী, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দশ প্রার্থী প্রতীক পান। এর মধ্যে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর প্রার্থীতা আইনী জটিলতায় স্থগিত হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ দেউলিয়া হয়ে বন্ধ ইউনূসের যুক্তরাজ্যের গ্রামীণ ফাউন্ডেশন

নির্বাচনী মাঠে অন্য প্রার্থীরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান ডাব, এনামুল হক সরদারের সিংহ, আব্দুর রব মল্লিক কার প্রতিক, গণফোরামের মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য, খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী দেয়াল ঘড়ি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মুশাহিদ খান টেলিভিশন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনোয়ার হোসেন আম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আমির উদ্দিন হাতপাখা।

ইত্তেফাক/নূহু

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত