অস্বাভাবিক পেট, ছোলেমানের বেঁচে থাকার আকুতি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২৯

অস্বাভাবিক পেট নিয়ে খুব যন্ত্রণায় কাটছে ছোলেমানের জীবন। একমাত্র আয়ে উৎস ভ্যান বিক্রি করে চিকিৎসা করেছেন। একে একে নয়টি মাস পেরিয়ে গেলেও কষ্ট কমেনি অসুস্থ ছোলেমানের। বর্তমানে কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাকে। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন ছোলেমানের পরিবার।

অসুস্থ ছোলেমান সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দের উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের হালুয়াকান্দি গ্রামের শুকুর আলী সরকারের ছেলে।

ছোলেমানের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভালই চলছিল ছোলেমানের জীবন সংসার। ছোলেমান ১০ বছর নিজ এলাকায় রিকশা চালিয়েছেন। তখন কারো কাছে হাত পাততে হয়নি তাকে। তারপর পরিবার নিয়ে আরো একটু ভাল চলার জন্য চলে যান গাজীপুরে। সেখানে দীর্ঘ দিন একটি কোম্পানিতে কাজ করেন তিনি। ১১ বছর পর ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। আবারো ভ্যান চালাতে থাকেন বছর দুই। এভাবে চলতে চলতে গত ঈদ উল ফিতরে তার পায়ে হানিয়া উঠে। ডাক্তার দেখালে তাকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন। তখন তিনি সিরাজগঞ্জের একটি হাসপাতালে অপারেশন করেন। বেশ সুস্থই ছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন যেতে সেখানে ইনফেকশন দেখা দেয়। শরীরে যখন ইনফেকশন দেখা দেয় তখন ভ্যানটি বিক্রি করে চিকিৎসা চালাতে থাকেন। কিন্তু নিজের টাকা না থাকায় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় ছোলেমানের। এসময় কামারখন্দ উপজেলার একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান খোকন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ছোলেমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। টানা দেড় মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। কিন্তু তাতেও সে খুব একটা সুফল পাননি। অস্বাভাবিক পেট নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছেন ছোলেমান।

আরও পড়ুন: দুই হাত নেই, পায়ে লিখে ছনিয়া দিচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা

 স্ত্রী ও ৪ মেয়ে নিয়ে ছোলেমানের সংসার। ৩ মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে আর ছোট মেয়ে ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ে। বাবার এমন সমস্যায় লেখাপড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ছোট মেয়েটি।

ছোলেমান সরকার জানান, এখন আমার চিকিৎসা করার মত কোন অবস্থা নেই। এখন বাড়িতে এভাবেই কষ্ট করছি। প্রতি ১৫ দিন পর পর সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে পেট থেকে ৫/৬ লিটার করে পানি বের করে নিয়ে আসি। আমার তখন অনেক কষ্ট হয়।

ছোলেমান সরকারের স্ত্রী মমতা বেগম জানান, আমার স্বামীর কষ্ট দেখলে অনেক খারাপ লাগে। সারারাত ঘুম পাড়ে না। আবার হাসপাতালে নিয়ে পানি বের করতে হবে। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যদি এগিয়ে আসেন তাইলে ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

মোঃ রাকিবুল ইসলাম