টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে একজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর রাতে তিনি উপজেলার নগদাশিমলা এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মোতাবেক এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী ও জনপ্রতিনিধি।
মৃত ব্যক্তির গ্রামের একজন বাসিন্দা জানান, টাঙ্গাইল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বাস করতেন। করোনার কারণে পরিবার নিয়ে গত ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে আসেন। কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গ্রামে তিনি জনসংযোগ করে বেড়িয়েছেন।
গোপালপুর পৌরসভা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট বিশ্বজিত কুমার জানান, গত পরশু তিনি টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে তাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে জরুরি কাজের জন্য ভর্তি না হয়ে ফিরে আসেন।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা। আপাতত তার পরিবারের সবাইকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, নিহতের পরিবার তাদেরকে জানিয়েছেন তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রশাসন মাইকিং করায় সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নিতে পারেনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনিরসহ দলীয় নেতাকর্মীরা জানাজা নামাজ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আরো পড়ুন: রাজশাহীতে আইসোলেশনে নাটোরের যুবক
গোপালপুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ওই বাড়িতে ভিড় এড়ানোর জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, করোনা উপসর্গ সন্দেহে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম

