টেকসই বাঁধের অভাবে কষ্টের শেষ নেই কয়রার মানুষের

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০৭:০২

সাড়ে তিন বিঘে জমি, লাখ টাকা দিয়ে রাখিলাম, রাখার পর কল পুতিছি, দুই পাশে রাস্তা দিছি। পাতাপুতি দিয়ে কেবল জমিতি ঘর তুলিছি, ওমনি জমিসহ সব চলে গেল ভাঙনে। এখন নেই কোনো আশ্রয়।

 

ভাঙনে বাড়িঘর হারানো খুলনার কয়রা উপজেলার দুই নম্বর কয়রা গ্রামের এক বিধবা নারী এভাবেই তার কষ্টের কথা তুলে ধরছিলেন। অপরদিকে, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হাজতখালি-কাশির হাটখোলার বেড়িবাঁধের ওপর কুঁড়েঘরে বসবাসরত মনোরঞ্জন সরকারের স্ত্রী সুচিত্রা সরকার হতাশার সুরে বলেন, ‘ঘরবাড়ি নেই। বড় কষ্টে ওয়াপদার ওপর কুঁড়েঘর বেঁধে আছি। তিন বেলা খাবার জোটে না। ত্রাণও পাই না। আমাদের নিয়ে চিয়ারম্যান-মেম্বরগো কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তারা আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না।

 

সাইক্লোন আম্ফানের পর দীর্ঘ তিন মাসে কেটে গেলেও এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি সুচিত্রা সরকারের পরিবার। তাদের মতো বেড়িবাঁধের ওপর কুঁড়েঘর বেঁধে মানবেতর জীবনযাপন করছে আরো ১৮০টি পরিবার। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। অনিশ্চিত জীবনযাপনের মধ্যে থাকা এই হতদরিদ্র মানুষেরা জানে না কবে তারা ফিরতে পারবে বসতবাড়িতে। সম্প্রতি সরেজমিন উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হাজতখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঘরবাড়ি লবণ পানিতে তলিয়ে আছে। গ্রামের মজিদ মোল্লা খাট দিয়ে মাচা করে তার ওপরেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কোনো আয়-রোজগার নেই তার। যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। শুধু সুচিত্রা কিংবা মজিদ মোল্লা নয়, একইভাবে তাদের কষ্টের কথা জানান বেড়িবাঁধের ওপর কুঁড়েঘর আশপাশে ডুবে যাওয়া বাড়িঘরে পানির মধ্যে ইট দিয়ে খাট উঁচু করে বসবাসরত হাজতখালি গ্রামের অমূল্য বরকন্দাজের স্ত্রী গোলাপী, আবু সাইদ সানার স্ত্রী তহমিনা প্রমুখ।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি