‘আজকালের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ না হলে পেটে ভাত যাবে না বাহে’

‘আজকালের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ না হলে পেটে ভাত যাবে না বাহে’
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা বৃষ্টিতে থমকে আছে জনজীবন। ছবি: ইত্তেফাক

গ্রীষ্মের দাবদহ ও বর্ষার অভিঘাত শেষে এখন শ্বেতশুভ্র শরৎ সমাগত। তবুও যেন থামছেনা ক্লান্তিহীন বর্ষা, ঝরে চলেছে অঝোরে। গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনেও। সবচেয়ে সঙ্কটে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

গত সোমবার থেকে অনবরত বৃষ্টি সঙ্গে মেঘের গর্জন ও বিদ্যুতের ঝলকানিতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে সাহস পায়নি। ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেছেন অনেকেই। বৃষ্টিতে ভিজে কাজে গেছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজন। ফিরেছেন কাকভেজা হয়ে। সবমিলিয়ে শরতের এ বৃষ্টিতে ছন্দপতন ঘটেছে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরায়। উপজেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে খানাখন্দসহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঠেলা চালক বাবলু চন্দ্র রায় ও ভ্যান চালক জহুরুল হক জানান, গত পাঁচদিন ধরে একটানা বৃষ্টি বাহে। বৃষ্টিতে কাজে যেতে পারছি না। যা জমানো ছিল সব শেষ। আজকালের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ না হলে পেটে ভাত যাবে না বাহে !

দিন মজুর কাশেম আলী ও ছাইদুল ইসলাম জানান, এভাবে বৃষ্টিপাত হতে থাকলে মরণ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। গত পাঁচ দিন থেকে বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারছি না। এক টানা বৃষ্টি হচ্ছেই। কাজ করতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, লঘু চাপ ও মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৪৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার দুপুর ১২টায় ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকায় শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত