ফের ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের লাশ উত্তোলন

ফের ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের লাশ উত্তোলন
রায়হান আহমদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। ছবি : ইত্তেফাক

এসএমপির বন্দর বাজার ফাঁড়িতে 'পুলিশী নির্যাতনে' নিহত রায়হান আহমদের মরদেহ আবারও ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে আখালিয়া নবাবী মসজিদ পঞ্চায়েত গোরস্থানের কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমদ ও মেজবাহ উদ্দিন আহমদের উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার রায়হানের মৃতদেহের প্রথম দফা ময়নাতদন্ত করার পর দাফন সম্পন্ন হয়। সূত্র মতে হেফাজতে মৃত্যু আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করার কথা থাকলেও সেদিন তা করেনি পুলিশ।

এরপর এ মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই বাতেন জেলা প্রশাসকের কাছে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন করলে বুধবার এ অনুমতি প্রদান করা হয়।

নিহত রায়হান আখালিয়া নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র। রায়হান সিলেট নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন। শনিবার তিনি যথারীতি দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় তার স্বজনরা ছিলেন উদ্বেগে।

নিহতের চাচা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ভোর ৪টার দিকে রায়হান একজন পুলিশ সদস্যের ফোন দিয়ে তার মায়ের মোবাইল নম্বরে কল করে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, ১০ হাজার টাকা লইয়া তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে আও।’ এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন : করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে

মো. হাবিবুল্লাহর দাবি, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে পাশের ফাঁড়িতে রায়হানের সন্ধানে গেলে ডিউটিরত কনস্টেবল তাকে জানান- ‘সবাই ঘুমে। সকালে আসেন।’ এ সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়। পরে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ। ওসমানী মেডিকেলে যান। এরপর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে এসে দেখেন রায়হানের লাশ। এই ঘটনায় নগরীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, রায়হানের পায়ের তলা ও হাঁটুর নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁড়ির ভেতর 'পুলিশ নির্যাতন' করে তাকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত