সাভার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় বিজিবির এক মেজরকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করায় এবং ‘ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া গুলিবর্ষণ করতে নিষেধ করায়’ তার হাতে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন দায়িত্বরত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রবিবার সকালে উলাইল বাসস্ট্যন্ডের আল-মুসলিম পোশাক কারখানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিজিবির মেজরের হাতে লাঞ্ছনার শিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়।
দায়েরকৃত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় রবিবার সাভারের আল-মুসলিম কারখানায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অবস্থান করছিল বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল। ওই দলে বিজিবির নেতৃত্বে ছিলেন ৫ বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজিবুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনের এক পর্যায়ে মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলামকে নিয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মেজর (অবঃ) খন্দকার হেলাল হোসেনের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আলাপচারিতার একপর্যায়ে রাজিবুল ইসলাম বিজিবি মেজর রহমত উল্লাহকে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় তিনি রাগান্বিত ও ক্ষিপ্ত হন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আশুলিয়া থেকে সংবাদ আসে ওই অঞ্চলের কারখানার বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।
এসময় মেজর এএফএম রহমত উল্লাহ তার দুজন সিপাহীকে ডেকে আশুলিয়ার একটি স্থানে যেতে বলেন এবং তাদের নির্দেশ দেন ‘সেখানে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে সরাসরি ফায়ার ওপেন করবে এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবে।’
এসময় সেখানে উপস্থিত থাকা রাজিবুল ইসলাম আইনের বিধি উল্লেখ করে বিজিবি মেজর রহমত উল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন- 'গুলি করার অনুমতি আপনি দিতে পারেন না। গুলি করার পরিস্থিতির উদ্ভব হলে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি বিবেচনা করে গুলি করার অনুমতি দিতে পারেন।' এ কথা শুনেই মেজর রহমত উল্লাহ উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং রাজিবুল ইসলামকে ‘তুই-তুমি’ বলে সম্বোধন করেন।
পরে তার শার্টের কলার ধরে রুমের বাইরে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং উপর্যপুরি কিল-ঘুষি ও বুট দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাজিবুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান। মারধরে তার ডানচোখের উপর কেটে যায় এবং মুখ মণ্ডল ফুলে যায়। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সবাই হতবিহবল হয়ে পড়ে। বিজিবি কর্মকর্তা কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রহারের সংবাদ পেয়ে অপর এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শারীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন: চৌমুহনীতে জিএমবি সদস্যকে ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ
আল-মুসলিম গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মেজর (অবঃ) খন্দকার হেলাল হোসেন বলেন, তার কক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা সত্যিই দুঃখজনক।
ইত্তেফাক/আরকেজি

