ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬
২৯ °সে

গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: হাইকোর্টের রুল জারি

গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: হাইকোর্টের রুল জারি
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি।

শরণখোলার আর.কে.ডি.এস পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সম্প্রতি গঠিত ম্যানেজিং কমিটি কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। অপরদিকে, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার তড়িঘড়ি গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শনিবার (১৯ জানুয়ারি) নিজেই প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েছেন। উপজেলা সদরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন গোপন নিয়োগের ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার নিজে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেওয়ার জন্য নির্বাচন বা ঘোষণা ছাড়াই গত ০১/১০/২০১৮ তারিখ এডহক কমিটি থেকে মমতাজ বেগমকে সভাপতি করে একটি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন করান। এ ঘটনা জানতে পেরে বিদ্যালয়ের ছাত্রী অভিভাবক ও খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন গোপনে গঠিত ওই কমিটি অবৈধ দাবি করে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন।

আদালত শুনানি শেষে গত ১৫ জানুয়ারি গোপনে গঠিত ওই ম্যানেজিং কমিটি কোনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের চার সপ্তাহর মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে এডহক ও নিয়মিত উভয় কমিটিতে থাকা আ. হালিম খানের সদস্যপদ স্থগিত ঘোষণা করেছেন আদালত।

বাদীর পক্ষে রিট মামলা পরিচালনা করেন এ্যাড. সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ ও এ্যাড. সৈয়দ ফজলে এলাহী। রিটে বিবাদীরা হলেন সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড যশোর, জেলা প্রশাসক বাগেরহাট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরণখোলা, স্কুল ইনস্ট্রাক্টর যশোর বোর্ড, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরণখোলা, সৌমিত্র সরকার প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরণখোলা, মমতাজ বেগম সভাপতি ম্যানেজিং কমিটি, মো. সেলিম হাওলাদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সদস্য মাসুম বিল্লাহ, শামসুন্নাহার, সাবেরা সুলতানা, তালুকদার রাজা মাহমুদ, আ. হালিম খান, মো. ইব্রাহিম খান, জাহিদুর রহমান, আফরোজা বেগম ও বাচ্চু হাওলাদার।

মামলার বাদী মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, ‘গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের খবর জানার পর তা স্থগিত করার জন্য গত ১১/১১/২০১৮ তারিখ পাঁচ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে যশোর বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু বোর্ড থেকে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ওই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী অভিভাবক। আমার মতো অনেক অভিভাবকেরই আশা ছিল উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে জাকজমকপূর্ণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন হবে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার জন্য গোপনে কমিটি গঠন করেন। এমনকি ওই কমিটির ওপর মহামান্য হাইকোর্টের রুল জারি হওয়া সত্বেও তিনি অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়ে বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছেন।’

এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠন করে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নিয়োগ বিধি মোতাবেকই হয়েছে ‘

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমার কোনো ভূমিকা নেই।’

আরও পড়ুনঃ খুলনায় বখাটেদের ইটের আঘাতে মসজিদের খাদেম নিহত

এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদারের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন