জয়পুরহাটে আখ মাড়াই বন্ধ, চিনি উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:২৭

শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বুধবার সকাল থেকে দেশের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

চিনিকল সূত্র জানায়, মাড়াইয়ের জন্য মিলের বাইরে পড়ে থাকা হাজার হাজার মেট্রিক টন কাটা আখ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আরও পড়ুন: দুই দশকে আখের উৎপাদন কমেছে ৯৬ শতাংশ

জয়পুরহাট চিনিকলের আওতায় থাকা আখগুলো কেটে অর্ধেক করার পর চেইন দিয়ে বাঁধা হয়। এতে মেশিনের সাহায্যে ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপ করতে সহজ হয় শ্রমিকদের। কিন্তু শ্যামপুর ও মহিমাগঞ্জ থেকে আনা আখগুলো গোটা গোটা আবার চেইন দিয়ে বাঁধা হয়। এই আখ এক বোঝা এক বোঝা করে ডোঙ্গায় হাত দিয়ে ফেলতে হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অসুবিধার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে। এখানে কর্মরত শ্রমিকরা চিনিকলের নিজস্ব শ্রমিক নয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে কন্ট্রাকের ভিত্তিতে তিন শিফটে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করে থাকেন। চেইন দিয়ে বাঁধাই করা আখ ফেলতে রাজি হলেও মহিমাগঞ্জ বা শ্যামপুরের গোটা আখ ফেলতে রাজি না হওয়ায় তারা কাজ বন্ধ করে দেন। এতে চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম বুধবার সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায়। 

এদিকে, আখের রস বের করে নেওয়ার পর ছোবরা (স্থানীয় নাম ভেগাজ) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বয়লারে যা থেকে স্টিম তৈরি হয়। বর্তমানে ভেগাজের অভাবে বয়লারের স্টিমও কমে গেছে। নতুন করে অন্য মিল থেকে ভেগাজ সংগ্রহের কাজ চলছে। বয়লার চালু করার জন্য ১০০ মেট্রিক টন ভেগাজ প্রয়োজন হলেও রাজশাহী চিনিকল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আবু বকর। ডোঙ্গা আখ নিক্ষেপ কাজের জন্য আগের ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।  

জয়পুরহাট চিনিকলের ২০২০-২০২১  মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১০ হাজার ৬শ’ ৯২ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। আখের অভাবে অব্যাহত লোকসান কমাতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার উত্তরাঞ্চলের তিনটি চিনিকল এলাকার এক লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করা হবে দেশের বৃহত্তম চিনিশিল্প জয়পুরহাট চিনিকলে। 

আরও পড়ুন: চিতলমারীতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

এরমধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট এলাকার ৬০ হাজার মেট্রিক টন আখ, শ্যামপুর চিনিকলের ৫০ হাজার ও মহিমাগঞ্জ চিনিকলের ৫২ হাজার মেট্রিক টন আখ। ২০২০-২১ সালে ১০ হাজার ৬শ’ ৯২ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষ। 

চিনি আহরণের শতকরা হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৬০ ভাগ। এটি হচ্ছে জয়পুরহাট চিনিকলের ৫৮তম মাড়াই মৌসুম। এবার ১শ’ ১০ দিন মিল চালু থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। শ্যামপুর ও মহিমাগঞ্জ চিনিকল থেকে আখ ক্রয় করে ট্রাকের মাধ্যমে জয়পুরহাট চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছে। 

ইতোমধ্যে ৪৮ হাজার ১১০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ২ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান, জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আবু বকর। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ