‘আমাদের ঘরে কারেন্ট নাই, খাওয়ার পানি নাই’

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ০৭:৫২

রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক হাতে মোম জ্বালিয়ে আরেক হাত দিয়ে রান্না করছেন সখিনা বেওয়া (৫০)। ঘরের বাইরে বিকল্প আলোয় রান্না করতে পারলেও ঘর রয়েছে অন্ধকারে। তাই একদিকে নিরাপত্তার অভাব, অন্যদিকে রান্না শেষ করে সেই মোমের আলো জ্বালিয়ে ঘরে যেতে হবে তাকে। শুধু সখিনা বেওয়াই নন, তার মতো প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়া ২৭টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে। পাকা এসব ঘরে আলো জ্বালাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের গারাবাড়ী এলাকায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে দেওয়া পাকা ঘরগুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ নেই। এছাড়া সেখানে খাওয়ার পানির জন্য বসানো হয়নি কোনো টিউবওয়েল। ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের আশপাশের বাড়ি থেকে পানি এনে খেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, শেখ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে উপজেলার গারাবাড়ী এলাকায় অসহায় ২৮ পরিবারের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ঘরপ্রতি সরকারের খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। একটি ঘরে থাকার জন্য দুটি রুম, একটা বারান্দা, বাথরুম, কিচেনরুম ও ইউটিলিটি।

পাকা ঘর পাওয়া সখিনা বেওয়া বলেন, ‘ঘরে ওঠার আগেই বলা হয়েছিল সরকার থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। কিন্তু সেই কথার বাস্তবায়ন দেখছি না। আমরা চরের মানুষ চরেই ভালো ছিলাম। এখানে কারেন্ট (বিদ্যুত্) নাই। খাওয়ার পানি নাই। বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে পানি জমে থাকে। প্রশাসন থেকে কোনো খোঁজ নেয়নি।’

লাল মিয়া বলেন, তিন মাস ধরে ঘরে উঠেছি, কিন্তু খাওয়ার পানির ব্যবস্থা এখনো হয়নি। এছাড়া এই গুচ্ছপাড়ায় বিদ্যুত্ নেই। সরকার থেকে যদি সোলারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমাদের উপকার হতো।’

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে, সেখানে পানি ও বিদ্যুত্ পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জেলার অনেক উপজেলাতেই আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ চালু হয়েছে। ভূঞাপুরেও অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পানি ও বিদ্যুত সংযোগের কাজ শুরু করা হবে। আর সেখানে বৃষ্টি নামার পর পানি জমাট বাঁধার বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ