জীবনের ঝুঁকিতে মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাসের ছাত্ররা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩৩

প্রায় দুইশ বছর আগে নির্মিত রংপুর সরকারি কলেজের শহীদ মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাসটি। বামনডাঙ্গা কালীধামের জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর জমিদার বাড়ি ছিলো এটি। এখন এই পুরোনো ভবনের জরাজীর্ণ দশা। ভবনটির দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে। গজিয়ে উঠেছে নানান জাতের গাছ। ছাদের কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে ছাদের রড। চারিদিকে যেন ভুতুড়ে পরিবেশ। তবু ভবনটি ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। 

প্রায় আট বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভবনটিকে দুই দফায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এমনকি ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ নয় বলে রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবও ভবনটিতে থাকছেন ৫০ জন শিক্ষার্থী। ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সামান্য দুর্যোগে যে কোনো সময় ভবন ধ্বসে ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা।

ছাত্রাবাসে বসবাসকারী ছাত্র মাহমুদুল হাসান, রাজীব হোসেন, জয়, মামুন বলেন, ‘মেসে থাকার খরচ বেশি। সেই খরচ চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আমরা অন্য জায়গায় যেতে পারছি না।’

ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর কলেজের পক্ষ থেকে এখানে ছাত্রদের থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও নিজ দায়িত্বে সেখানে থাকছে বেশ কিছু ছাত্র। মানবিকতার দিকটি বিবেচনা করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কলেজের পাশেই টিনশেড দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে ছেলেরা থাকে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দোতলায় দুটি রুম ভালো আছে বলে জানানোর পর সেখানেই থাকে ছাত্ররা। এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

এদিকে গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর শতাধিক ভবন ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকার প্রথমেই রয়েছে এই মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস। ২০১১ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দুই দফায় ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দুটি রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়। ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ নয় বলে রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।

আরও পড়ুনঃ দেবিদ্বারে শতাধিক মাদক কারবারী আটক

রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কানিজ উম্মে নাজমা নাসরিন বলেন, ‘ছাত্রাবাসের জমিটি চিরস্থায়ীভাবে রংপুর সরকারি কলেজের নামে করে নেওয়া এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু