দপ্তরি নিয়োগের জন্য দেওয়া ঘুষের টাকা অবশেষে ফেরত পেলেন নিয়োগ প্রার্থী আজিজুল। সোমবার বিকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে বোয়ালী সবুজ বাংলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা কার্যালয়ে সালিসি এক বৈঠকের মাধ্যমে নিয়োগ প্রার্থীর ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা ও কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, টাকা ফেরত পাওয়া আজিজুল মিয়া বোয়ালী গ্রামের মোমরেজ আলীর ছেলে। তিনি বোয়ালী সবুজ বাংলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় দপ্তরি পদে নিয়োগ পেতে ওই মাদ্রাসার সভাপতি ফজলুল হককে এক লাখ দেন। এরপর মাদ্রাসার সুপার খন্দকার ইব্রাহিমকে দেন এক লাখ ৯০ হাজার টাকা।
আরো পড়ুন: ইয়াবা বিক্রির সময় পুলিশ কনেস্টবল গ্রেফতার
গত ২৫ জানুয়ারি নিয়োগের দিন ওই কমিটি আজিজুল মিয়াকে নিয়োগ না দিয়ে ওই গ্রামেরই হাবিব মিয়াকে নিয়োগ দেয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সুপারকে দায়ী করে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন আজিজুল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
আজিজুল ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়শা জান্নাত তাহেরাকে এ বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে নানা চাপের মুখে ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সোমবার একটি সালিসি বৈঠকে আজিজুলকে দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আপোষ-মীমাংসা করে।
বোয়ালী বিএল চাষি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এক নম্বরের সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
আরো পড়ুন: ভারতের সাবমেরিন আটকে দিল পাকিস্তান
ওই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ফজলুল হক এবং মাদ্রাসার সুপার খন্দকার ইব্রাহিম চাকরি প্রার্থী আজিজুলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
আজিজুল মিয়া বলেন, আমার টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে অবদান হচ্ছে ইউএনও স্যার ও সাংবাদিকদের। এরা লেখালেখি না করলে হয়তো এ টাকা ফিরে পাওয়া সম্ভব হতো না।
জানতে চাইলে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমান বলেন, আজিজুল টাকা ফেরত পেয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
