কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা ধরলা নদী এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। পানির প্রবাহ ঠিক না হলে নদীটি দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার আশংকা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক যুগ আগেও প্রাণের স্পন্দন ছিল ধরলাতে। এ পানি না থাকায় ধরলা নদীতে ছোট বড় প্রায় দেড় শতাধিক চরের সৃষ্টি হয়েছে। ধরলায় পানি না থাকায় পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন আবার অনেক। প্রান্তিক কৃষক ধরলা বুকে জেগে ওঠা পলিমাটিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করেছেন।
ধরলা পাড়ের কৃষক বাবুল মিয়া, রফিকুল, আজিজুল, আব্দুর রহমান, জয়নালসহ অনেকেই জানান, এক সময় এই ধরলা নদী আমাদের ঘর-বাড়ি ,আবাদি জমিজমা নদী গর্ভে চলে গেছে।। সেই ধরলা এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে হয়েছে।
অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন ধরলা ভাঙ্গনে। বেশ কয়েক বছর ধরে ধরলার বুকে ইরি-বোরো চাষাবাদ করছেন এখানকার প্রান্তিক চাষীরা।
ধরলা সংলগ্ন বারোমাসিয়া, নীলকমলসহ আশপাশের সকল নদীর বুকে শত শত বিঘা জমিতে কৃষকরা কয়েক বছর ধরে ইরি-বোরো চাষাবাদ করে আসছেন। বছরে মাত্র একবার ধরলার বুকে চাষা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ধরলা পাড়ের জেলে পরিবার গুলো। নদীতে পানি না থাকায় মিলছে না দেশি প্রজাতির মাছ। ফলে এখানকার জেলেরা অনেকেই দিনমজুর, রিকশাচালক, মালীসহ নানা পেশায় সম্পৃক্ত হলেও অধিকাংশ জেলে কাজ না জানায় বেকার।
অন্যদিকে ধরলার বুকে অসংখ্য চর জেগে নদীর ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ধরলা সংলগ্ন বারো মাসিয়া, নীল কমলসহ আশেপাশের সকল নদী গুলো পুনঃ খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে নদীটি আবার তার রূপ ফিরে পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এ উপজেলায় ইরি-রোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। চাষাবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। এছাড়াও নদী অববাহিকার কৃষকরা একশ ৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। তবে এটি আমাদের কৃষি অফিসের আবাদি জমির হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আরো পড়ুন: ইরানে ভয়াবহ বন্যায় ১৯ জনের প্রাণহানি
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন বলেন, এ বিষয়ে আমি নদী রক্ষা কমিটির মিটিংয়ে পূনঃ খননের বিষয়টি উপস্থাপন করবো। আশা করছি কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ইত্তেফাক/অনি

