কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আমন মৌসুমে খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে চালকল মালিকগণ অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার খাদ্যকর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ৩ ধাপে ৬৫৫ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৭টি চালকল থেকে এই চাল সংগ্রহের চুক্তি করা হয়। প্রতিটি চুক্তিবদ্ধ চালকল সমুহের সর্বনিম্ন পাক্ষিক ছাটাই ক্ষমতার ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ১৪ মেট্রিকটন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর ২০১৮ এর শুরু থেকে ২৮ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ৩ ধাপে চাল সংগ্রহ শেষ করা হয়েছে। খাদ্যগুদামের চাল সরবরাহের নীতিমালা অনুযায়ী চলমান চালকল, আলাদা চাতাল, আলাদা বিদ্যুৎ, ধান সেদ্ধ করার দুটি হাউস, বয়লার ও গুদামঘর আছে কি না তা যাছাই বাছাই করে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে চাল সংগ্রহ করার কথা।
চলমান চালকল মালিকগণ বলেন, আমরা কষ্ট করে চাল তৈরি করে খাদ্য গুদামে দিচ্ছি। অথচ পরিত্যক্ত চালকল মালিকগণ চাল তৈরি না করে অনিয়মিতভাবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করে বাইরে থেকে চাল কিনে গুদামজাত করছে। ফলে কৃষকেরা যেমন ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নে মেসার্স মোহাম্মদ আলী চালকল, মেসার্স ইসলাম চালকল মেসার্স সৌরভ চালকল, মেসার্স সোহেল চালকল, মেসার্স রবিউল চালকল, মেসার্স শান্ত চালকল, মেসার্স সজিব চালকল, মেসার্স ভাই ভাই চালকল, মেসার্স মিনা চালকল, মেসার্স লাবিব চালকল, মেসার্স তুষার চালকল, মেসার্স এমআর চালকল, মেসার্স বিন্দু চালকল, শৌলমারী ইউনিয়নের মেসার্স জাবেদ চালকল, মেসার্স এসএস চালকল, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের মেসার্স ভাই ভাই চালকল, মেসার্স হক চালকল, মেসার্স ভাই ভাই চালকল ও মালিক সমিতির সভাপতির চালকলসহ ৩২টি চালকল বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে কর্তিমারীর মা চালকল ও রাসেল হাংকি মিল, প্রোঃ লিয়াকত আলী, হাসনাত চালকল প্রোঃ হাসিনা খাতুন সহ ৫টি চালকল চালু রয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শিকদার বলেন, এ ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। আপনারা পত্রিকায় যা খুশি লিখতে পারেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাগান্বিতভাবে বলেন, ‘আমি কোন তথ্য দিতে পারবো না।’
আরও পড়ুনঃ রাজৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিকাশ কর্মী নিহত
চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপঙ্কর রায় বলেন, ‘চালকলগুলির বন্ধ থকার বিষয়ে আমার জানা নেই। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বন্ধ চালকলগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
