পরকীয়ার অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতন

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:০১

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে পরকীয়ার অভিযোগ এনে রেশমা বেগম (২৯) নামের এক গৃহবধূ ও তার কথিত প্রেমিক জাহেদকে (২৬) গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টায় উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের পুটকিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মৃত আশরাফুল ইসলাম আবুলের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। 

প্রতিবেশী আনিছুর রহমান জানান, প্রথম স্বামী আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর পর রেশমা প্রতিবেশী জাহেদকে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পরে রেশমা জাহেদকে তালাক দিয়ে ছেলে ও মেয়েসহ পূর্বের স্বামীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তালাক হলেও ওই দুইজনের মধ্যে সম্পর্ক থেকে যায়। বিষয়টি প্রতিবেশীদের দৃষ্টিকটু হওয়ায় সোমবার রাতে জাহেদকে রেশমার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে দুইজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শাসন করে আত্মীয়রা।
 
রেশমার প্রথম স্বামীর বড় ভাই মকছেদ আলী বলেন, ‘রাতে রেশমার বাড়িতে জাহেদ গেলে তাদেরকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে শিক্ষা দিয়েছে গ্রামবাসী।’ 

রেশমার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মাছতুরা আরফিন জানায়, সোমবার রাতে মাসহ ভাইবোন ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ১টার দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পাই। এক পর্যায়ে আঙ্গিনায় থাকা লোকজন দরজা খুলতে বলে। ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় এসে দেখি জাহেদকে লোকজন ধরে রেখেছে। এ সময় লোকজন গ্রিলের তারা খুলতে বলে। গ্রিলের তালা খোলা মাত্র প্রতিবেশী মিজানুর রহমান, মহসিন আলীসহ বেশ কিছু লোক ঘরে ঢুকে মাকে চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে আঙ্গিনায় নিয়ে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আঙ্গিনার নারিকেল গাছের সঙ্গে মা ও জাহেদকে বেঁধে মারপিট করে।

এ সময় ছোটভাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আছিয়ার রহমান মাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাদের মারপিট করে ঘরের ভেতর বন্ধ করে রাখা হয়। সারারাত মাকে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে যে যার মতো মেরেছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় সেখান থেকে সরিয়ে গ্রামবাসীকে দেখানোর জন্য বাড়ির বাইরের আম গাছের সঙ্গে ওই দুইজনকে বেঁধে পুনরায় মারপিট করা হয়। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

রেশমার বড়বোন মাহাফুজা বেগম বলেন, রেশমার প্রথম স্বামীর বসতবাড়িসহ জমিজমা আত্মসাৎ করার জন্য তার বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে। যাতে করে সে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়।

আরো পড়ুন: চবির হলে তল্লাশি, ১২৬ রাউন্ড গুলিসহ ২টি পাইপগান উদ্ধার
  
ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা নবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর সকালে গিয়ে গাছে বেঁধে রাখা ওই গৃহবধূসহ জাহেদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে গাছে বেঁধে রেখে নির্যাতনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
 
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূসহ জাহেদকে আম গাছে বেঁধে রাখা অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
 
থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাসিম হাবিব বলেন, বিষয়টি জানার পর তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/অনি