সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ঝিনিয়া গ্রামে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু মায়ের জমি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে ছেলেরা। ওই মায়ের নাম কাছিরান বেওয়া। ঝিনিয়া গ্রামের সাহেব উদ্দিনের স্ত্রী তিনি।
জানা গেছে, সাহেব উদ্দিন মারা যাওয়ার সময় স্ত্রী কাছিরান, ৬ ছেলে ও ৫ মেয়ে রেখে যান। ছেলে-মেয়েরা সকলে সংসার জীবন শুরু করে স্বাচ্ছন্দে দিন পাড়ি দিয়ে আসছেন। কাছিরন বেওয়া হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেরা অর্থ সংকটের অজুহাতে মায়ের চিকিৎসা না করলে মেয়েরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মায়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার এক পর্যায়ে মেয়েরা ভাইদের কাছে আর্থিক সাহায্য চায়। তখন ছেলেরা মায়ের নামীয় ১৩ শতক জমি বিক্রি করে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চিকিৎসার নামে টালবাহনা শুরু করে।
এ নিয়ে কাছিরন বেওয়ার মেয়ে রশিদা বেগম থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ছেলে কলিম উদ্দিনকে আটক করে থানায় নেয়। পরে মায়ের চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে গত ২৪ মার্চ কলিমসহ ৫ ছেলে ষড়যন্ত্র আঁটে। কমিশন করে নিজ বাড়িতে জমি নিবন্ধনকে এনে মুমূর্ষু মায়ের নামীয় ৭২ শতক জমি ৩৫৮৯ নম্বর দলিল মূলে দানসত্ত্বে মালিকানা করে নিয়ে বাড়ি থেকে মাকে তাড়িয়ে দেয়।
উপায়ন্তর না পেয়ে রোগে আক্রান্ত কাছিরন বেওয়া মেয়ে রশিদার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রশিদা মাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ নিয়ে কাছিরন বেওয়া জমি উদ্ধার ও ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ৯ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুনঃ প্রত্যেক গ্রামে ‘আইসিটি ক্লাব’ তৈরি করা হবে:জুনাইদ আহমেদ পলক
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম অভিযুক্ত ছেলেদের অনতিবিলম্বে মায়ের চিকিৎসাসহ জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ দেওয়ার পর ১২ দিন অতিবাহিত হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলেরা জমি ফেরত দেয়নি। মায়ের চিকিৎসা খরচও দেয়নি। বর্তমানে মা কাছিরন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
ইত্তেফাক/নূহু

