কমলগঞ্জে দলই চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

কমলগঞ্জে দলই চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
বিক্ষোভ করছে চা শ্রমিকরা। ছবিঃ ইত্তেফাক।

কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী দলই চা বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণের দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালনসহ বিক্ষোভ করেছে। চা বাগানের গাছ চুরি, শশ্মান ভূমিতে চারা রোপন, চা বাগান বাংলোয় কর্মরত নারী শ্রমিকদের হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তারা এ বিক্ষোভ পালন করে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা দলই চা বাগান অফিসের সম্মুখে জড়ো হয়ে কর্মবিরতি পালন ও দিনভর বিক্ষোভ করে।

শ্রমিকদের অভিযোগে সরেজমিনে দেখা যায়, চা বাগান অফিস ও ফ্যাক্টরীর সামনে কয়েক শত নারী-পুরুষ শ্রমিকরা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের অপসারণ দাবি করে কর্মবিরতি পালন করছে এবং বিক্ষোভ করছে। চা বাগানের ৫৮২ জন চা শ্রমিকের কেউ কাজে যোগ দেয়নি। প্রত্যেকে কারখানা, অফিস ও আশপাশ স্থানে অবস্থান নিয়ে একযোগে কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ করছে।

দলই চা বাগানের শ্রমিক তুলশি দাশ, বিশাল পাশী, নারী শ্রমিক আশা বাউরী, কুসুম রিকিয়াসন বলেন, গত প্রায় এক বছর যাবৎ দলই চা বাগানে প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে বাগানের নানা প্রজাতির ছায়াদানকারী মূল্যবান গাছ বিক্রি করে চলেছেন। এই গাছগুলো বিক্রি করার ফলে বাগান ধ্বংস হলে আমরা চা শ্রমিকরা কোথায় যাবো?

পার্শ্ববর্তী হোসেনাবাদ চা বাগান এলাকার একটি সংঘবদ্ধ গাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই ব্যবস্থাপকের গোপন সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাগানের দুর্গম এলাকার গাছ বিক্রি করে টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে গত জানুয়ারি মাসে একদিন চা শ্রমিক দলই চা বাগানে কর্মবরতি পালন করে। পরে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সামাজিক বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করা হয়ে। তখন ব্যবস্থাপক ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকারও করেন।

কারখানা থেকে না বলে কিছু চা পাতা নেওয়ার কারণে কয়েকজন চা শ্রমিকের কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। সে অপরাধে চা শ্রমিক রফিক মিয়ার কাছ থেকে ব্যবস্থাপক জরিমানা হিসেবে ২০ হাজার টাকা, দীলিপ বাউরীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ও সত্তার মিয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করে নেন। এরপরও তাদের আর কাজে যোগ দিতে দেননি ব্যবস্থাপক।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, চা শ্রমিকরা বাগানের বাইরে একটি শশ্মান হিসেবে কিছু ভূমি ব্যবহার করছে যুগ যুগ ধরে। সম্প্রতি বাগান ব্যবস্থাপক এ শশ্মান ভূমিতে চায়ের চারা রোপন শুরু করেছেন। তাছাড়া বাংলোয় কর্মরত নারী শ্রমিকদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করছে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম। চা শ্রমিকরা পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করলেও সম্প্রতি সেই জ্বালানি কাঠের উৎসস্থলও ব্যবস্থাপক কেটে সাফাই করে নিয়েছেন।

দলই চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেতু রায় কর্মবিরতি ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসলেই এ চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুনঃ অস্ত্র মামলায় পেকুয়া যুবলীগ সভাপতির ১৪ বছর কারাদণ্ড

অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, দুইজন চা শ্রমিকের কাজ না দেওয়া নিয়ে শ্রমিকরা কিছুটা অসন্তুষ্ট রয়েছে। চা শ্রমিকদের কাছ থেকে জরিমানার টাকা গ্রহন ও বাংলোয় নারী চা শ্রমিকদের যৌন হয়রানি করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলে তিনি এখন বাগানের বাইরে আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে এসে কথা বলবেন। পরে চা বাগান অফিসে আসার পর তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি এখন কথা বলবেন না বলেই দ্রুত জিপ নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত