ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬
৩৭ °সে

নুসরাত হত্যা মামলায় স্বাক্ষী তলব ২৭ জুন

নুসরাত হত্যা মামলায় স্বাক্ষী তলব ২৭ জুন
নুসরাত জাহান রাফি হত্যার প্রধান আসামী সিরাজ উদ দৌলা। ছবি: ইত্তেফাক

আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার চার্জ গঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত চার্জ গঠন করেন। ২৭ জুন পরবর্তী শুনানী ও স্বাক্ষী তলবের ধার্য্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম ও জেলা পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে সকাল ১১টায় আদালতে আনেন। আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চার্জ গঠন ২৭ জুন করে মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, আদালতের নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ জন আসামি চার্জশিট থেকে অবমুক্তি চেয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের সে আবেদন খারিজ করে দেন। পরবর্তী শুনানিতে নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান, নুসরাতের দুই সহপাঠী নিশাত ও ফুর্তিকে তলব করেন।

নুসরাত হত্যা মামলার আসামি তার সহপাঠী। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে মামলার অন্যতম আসামি সন্তানসম্ভবা কামরুন নাহার মনি আদালতে তার চিকিৎসার আবেদন করলে বিচারক মনির সু-চিকিৎসা নিশ্চিতের আদেশ দেন। মামলা চলাকালীন সময় এজলাসে তাকে চেয়ারে বসার সুব্যবস্থা করেন।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হানিফ মজুমদার বলেন, ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত যথার্থ নয়। প্রকৃত হত্যার সঙ্গে জড়িতরা এ মামলায় সংযুক্ত হয়নি।’

মামলার বিচার কাজ শুরুর প্রায় একঘন্টার পর আসামিদের আইনজীবীরা এ আদালতে চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। তখন বিচারকের নির্দেশের কথা বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: শাহ আলম সংবাদ কর্মীদেরকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেন। তিনি বলেন, ‘বিচারকের নির্দেশ রয়েছে এ মামলা চলাকালে কোন সংবাদকর্মী আদালত কক্ষে থাকতে পারবে না।’

আসামি পক্ষের ফেনীর সিনিয়র আইজীবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু ও কামরুল হাসান জানান, আদালতের পরিবেশ শান্ত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ অভিযুক্ত আসামিদের মুখে তাদের কথা শুনতে শুরু করেন। এ সময় আসামিরা বিচারককে জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত আাসামিদের অমানসিক নির্যাতন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করিয়েছেন।

গত ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠা সংবলিত নথি ও চার্জশীট দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ১০ জুন আদালত চাজশিট আমলে নিয়ে ২০ মে চার্জ গঠনের দিন ধার্য্য তারিখ দেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

আরও পড়ুন: হাটহাজারীতে বাস-পিকআপে সংর্ঘষে নিহত ১, আহত ৯

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০১ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন