ফেরিঘাটে স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৫

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১নং ফেরিঘাটে এক যুগ্মসচিবের জন্য ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ঘাট কর্তৃপক্ষের গাফলতি আছে কি-না, সেই বিষয়ে জানাতে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। কমিটিতে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল হককে আহ্বয়ক করা হয়। এছাড়াও শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আবির হোসেন ও বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম (মেরিন)  একেএম শাজাহানকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তাদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য-যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মন্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় ৩ ঘণ্টা ফেরি বসে থাকায় ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার চারদিন পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিতাসের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তবে গাফলতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের দাবি, তাদের কাছে রোগীর স্বজনরা রোগীর অবস্থা জানানোর সাথে সাথে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হয়। এ্যাম্বলেন্স ফেরিতে লোড করে ১০ মিনিটের মধ্যেই ঘাট থেকে কুমিল্লা ফেরিটি শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওই অতিরিক্ত সচিবের জন্য খুব বেশি দেরি করেনি ফেরিটি।

কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম হোসেন বলেন, ‘ঘাটে আমাদের কোন গাফিলতি নেই। পদ্মা স্রোত বেশি থাকায় আমরা নিয়মিত ফেরি চলাতে পারছি না। এটা তো আর দায়িত্বে অবহেলার মধ্যে পড়ে না।’

গত বৃহস্পতিবার নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউ সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। রাত আটটার দিক মাদারীপুরের কাঠালবাড়ি ১নং ফেরি ঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। রাত ৯ টার দিক কুমিল্লা নামের ফেরিটি শিমুলিয়া থেকে কাঠালবাড়ি ঘাটে এসে গাড়ি আনলোড করছিল। এসময় ওই রোগীর লোকজন ঘাটে কর্মরতদের তাদের রোগীর অবস্থা বললেও গাড়ি আনলোড শেষে যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মন্ডলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত ফেরি ছাড়তে রাজি হননি ঘাট কর্তৃপক্ষ। পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়।

তিতাস ঘোষের বড় বোন তন্নীসা ঘোষ জানান, চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে অর্ধলাখ টাকায় ভাড়া করা হয় আইসিইউ সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সটি ঘাটে এসে থামে রাত ৮টার দিকে। ঘাটে ফেরি পারাপারের জন্য তাঁরা ঘাট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করেও সাহায্য চান। কিন্তু কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকার পরে রাত পৌনে ১১ টার দিকে ভিআইপি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাসটি ফেরিতে ওঠার পরে ছাড়া হয় ফেরি। ফেরিটি ছাড়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই মাঝ নদীতে মারা যায় তিতাস।

কাঁঠালবাড়ি ঘাট ট্রফিক পুলিশের পরিদর্শক উত্তম শর্মা বলেন, ‘ওই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে ফোন করার সাথে সাথে ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের এ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে তুলে দিয়েছিল। আমরা তাদের সকল ধরনের সহযোগিতা করেছি।’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাট কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি আছে কি-না সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআই