টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাসে ৩০০ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা চলছে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৫ জন রোগী এখানে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় জানান, মির্জাপুর সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য (কিট) বা প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা না থাকায় কুমুদিনী হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
গত ১ আগস্ট থেকে আজ ৩০ আগস্ট শুক্রবার পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক রোগী কুমুদিনী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকট থাকায় গত ৭ আগস্ট মো. আরিফ হোসেন কাজল (২২) নামে এক ছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আরিফ মির্জাপুর সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার পিতার নাম মো. আলম মিয়া, বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের খৈলসিন্দুর গ্রামে।
কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানায়, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শিক্ষা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক শ্রী মতি সাহা ও সম্পা সাহার সার্বিক সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনায় কুমুদিনী হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসকগণ জানান, আরিফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ আগস্ট ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নিতি না হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট সে মারা যায়। কুমুদিনী হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৩০০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। মির্জাপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশীরভাগ রোগী কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে ভাল হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। যারা এখনও আছেন তাদরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চলছে। বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ লোকজদের মধ্যে আতংক এখনও কাটেনি। কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন, ডেঙ্গু জুন-জুলাইয়ের দিকে প্রথমে রাজধানী ঢাকায় দেখা দেয়। আস্তে আস্তে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরে। মির্জাপুর এলাকার বিভিন্ন মফস্বলের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ পর্যন্ত ৩০০ রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তিকৃতদের মধ্যে বেশীর ভাগই ভাল হয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
আরও পড়ুন: ভূরুঙ্গামারীতে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মির্জাপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্ময়ে জনসচেতনামুলক সভা-সমাবেশ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যহৃত রয়েছে। হাসপাতালের ভর্তিকৃতদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসক-নার্সগণ নিয়মিত কাজ করেছেন কি না তা মনিটর করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু

