ভোলার সেই বিপ্লবের ভগ্নিপতি নিখোঁজ, জিডি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৮

ভোলা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সেক্রেটারি অবিনাষ নন্দী জানিয়েছেন, বোরহানউদ্দিনের সেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভর ভগ্নিপতি বিধান মজুমদার ও তার দোকানের কর্মচারী সাগর সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বিধান মজুমদার ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন রৌদের হাটে জুয়েলারি ব্যবসা করছেন। তার দোকানের নাম মা জুয়েলার্স।

অবিনাষ নন্দী জানান, তাকে জানানো হয়েছে সোমবার বিকেলে মাইক্রোবাসে কয়েকজন রৌদের হাটে মা জুয়েলার্সে যায়। তারা বিধান মজুমদার (৩৫) এর সাক্ষাতকার নেবে বলে তাকে এবং তার কর্মচারী সাগরকে (১৮) নিয়ে যায়। এরপর থেকে বিধান ও সাগর নিখোঁজ রয়েছেন। বিধানের বাড়ি লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ গ্রামে।

বিনয় ভূষন মজুমদার জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মা জুয়েলার্স থেকে তার ছেলে বিধান ও বিপ্লবের চাচাতো ভাই সাগরকে সিভিল পোশাকধারী ৭/৮ জন লোক ডিবির পরিচয় দিয়ে কালো একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর লালমোহন ও চরফ্যাশন পুলিশ সার্কেল কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য তাদের তুলে আনেন নি।

রৌদ্রেরহাট এলাকার ইউপি সদস্য আশ্রাফুল আলম টুলু বলেন, বিধানের স্ত্রী শিল্পী আমার কাছে ফোন করে জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর তার স্বামীর পরিচালিত মা জুয়েলার্স থেকে বিধান ও সাগরকে একটি কালো গাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়।

স্থানীয় আবু বকরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জমাদার জানান, রৌদ্রেরহাট বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাকে জানান, র‌্যাব এবং ডিবির পরিচয়ে বিধানকে গাড়িতে তুলে। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী বিধানকে কি কারণে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় বিপ্লবের ভগ্নিপতি বিধান ও তার চাচাতো ভাই সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, বিধান ও সাগরকে তুলে নেয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান পাটওয়ারী আরো জানান, বিধান ও সাগরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়ার ঘটনা তার জানা নেই।

উল্লেখ্য বোরহানউদ্দিনের বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভর ফেসবুক হ্যাক করে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নবী করিমকে (সা:) অবমাননাকর কটুক্তির ঘটনায় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, তারা বেতার বার্তার মাধ্যমে দেশের সব থানায় এ নিখোঁজের খবর জানাচ্ছেন এবং তারও তদন্ত করছেন। 

ইত্তেফাক/আরকেজি