আইএস এর নতুন গন্তব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া!

আইএস এর নতুন গন্তব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া!
আইএস জঙ্গিদের একটি বড় গ্রুপ মার্চ। ছবি সংগৃহীত

ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের আধিপত্য হারানোর পর আইএস জঙ্গিগোষ্ঠির নতুন গন্তব্য হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। মন্ত্রীসভার বৈঠকে এমনই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন। খবর সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস ও মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদসংস্থা বার্নামার।

মালয়েশিয়া প্রশাসন বলছে, আইএস শীর্ষনেতা আবু বকর আল বাগদাদি মারা যাওয়ায় দলটির শক্তি আপাতদৃষ্টিতে অনেক কমে গেছে। মার্কিন শক্তির চাপের মুখে জঙ্গিগোষ্ঠিটি ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য হারালেও তাদের বিরুদ্ধে এখনও অনেক দূর লড়তে হবে।

আইএস এর শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত হওয়ায় গোষ্ঠিটি পুনরায় নিজেদের সংঘবদ্ধ করতে দ্রুত তৎপরতা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে তাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার। তাই আইএস প্রতিরোধের জন্য এই অঞ্চলের সকল রাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি গ্রুপটির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মুহিদ্দিন ইয়াসিন বলেন, আমাদের বিশ্বাস, বাগদাদির মৃত্যুর ফলে আইএস এর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের আধিপত্য হারিয়ে নিজেদের জন্য নতুন ঘাঁটির সন্ধান করছে গ্রুপটি। আর তাদের নতুন টার্গেট হতে যাচ্ছে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো।

আরও পড়ুন: কারাগার থেকেই ‘আইএস টুপি’ এনেছিল দুই জঙ্গি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মালয়েশিয়া গত ছয় বছরে আইএস এর ২৫টি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে। এছাড়া এসময়ের মধ্যে জঙ্গি গ্রুপটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫১২ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের জুনে মালয়েশিয়ার মাটিতে প্রথম হামলা চালায় পুরো পৃথিবী জুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো জঙ্গিগোষ্ঠিটি। সেবার দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি বারে হামলায় ৮ জন আহত হয়। পরে আইএস এই হামলার দায়ও স্বীকার করে। এছাড়াও একই বছরের জানুয়ারীতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তাতে বেশ কয়েকটি সিরিজ হামলা চালায় উগ্রপন্থী ইসলামি গ্রুপটি।

মালয়েশিয়াতে হামলার পরের মাসেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত হলি আর্টিজান রেস্তোরাতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালায় আইএস এর বাংলাদেশী কয়েকজন সদস্য। এ হামলায় ৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল কমান্ডো অভিযানে রেস্তোরায় বন্দি বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ৫ জন জঙ্গি মারা যায় সেই কমান্ডো অভিযানে। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজান মামলার রায় নিষ্পত্তি হয়। রায়ে হলি আর্টিজান হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ৭ জন আইএস জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

ইত্তেফাক/এসএইচএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত