বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ট্রাম্পের আগামী নির্বাচন

তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ট্রাম্পের আগামী নির্বাচন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের নভেম্বরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে আর মাত্র পাঁচ মাস। এই সময়ের মধ্যে তিন তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচনের আগে একটি ট্রিপল বিড়ম্বনায় পড়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে শতাব্দীর বৃহত্তম স্বাস্থ্য সংকট। এর কারণে সৃষ্ট সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক মন্দা। আর সম্প্রতি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটিতে বর্ণবাদ নিয়ে আন্দোলন। যা ১৯৬০ সালের পর একটি সর্ববৃহৎ নাগরিক অশান্তি।

বিবিসি বলছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর।

'কুক পলিটিকাল রিপোর্টে' মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বাভাস দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লি কুক বলেছেন, 'এটি হবে আমাদের জীবনের সময়কালের সবচেয়ে কৃপণতম, নির্লিপ্ত এবং সবচেয়ে আকাঙ্খিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।’

তিনি লিখেছেন, 'এখন ভোটারদের কাছে কেবল দুটি জিনিসই গুরুত্বপূর্ণ: করোনভাইরাস এবং অর্থনীতি। এই দুটি জিনিসই এখন আরো ভাল হওয়ার চেয়ে আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। নির্বাচনের আগে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা এখন ট্রাম্প সরকারের জন্য বেশ কঠিন।'

এর মধ্যে জনস হোপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৬ জন। ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৮ জন।

এদিকে, শুরু যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় দেশটি শুরু হয়েছে লাগাতার বিক্ষোভ। যা দিনে দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে কঠোর অবস্থান তার জন্য আরও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লু বুশ প্রতিবাদকারীদের দমন করতে গিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।

আরও পড়ুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবারো চালু হচ্ছে বিমান ট্রানজিট

খবরে বলা হয়, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিপক্ষ জো বিডেন করোনা ভাইরাস লকডাউন চলা অবস্থায় জনসমক্ষে এসেছেন এবং ঐক্য গড়ার একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী করোনায় মানুষের জীবন হারানো, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছেন।

রয়টার্স বলছে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক সুরটি পাল্টে যায়নি। এ সপ্তাহে রয়টার্স/ইপসোসের একটি মতামত জরিপে দেখা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানরা প্রতিবাদকারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে এবং ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিস।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা: ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেফতার

সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিস বলেন, ট্রাম্প পরিপক্ক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মার্কিন জনগণকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ সামাল দেয়ার ট্রাম্পের চেষ্টায় রাগান্বিত ও হতবাক হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেমস মাতিস।

২০১৮ সালে সিরিয়া থেকে ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেম মাতিস।

ইত্তেফাক/আরআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত