ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য থেকে হতে পারে মানুষের ডিএনএ পরিবর্তন

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৩৩

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস বলেছে, ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ-কেন্দ্র থেকে শীঘ্রই দূষিত পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এবং তাতে মানব ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দূষিত পানিতে রয়েছে কার্বন এবং নানা রকম তেজস্ক্রিয় উপাদান। 

২০১১ সালের ১১ই মার্চ এক মহা প্রলয় শুরু হয়েছিল জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে৷ প্রথমে প্রচণ্ড ভূমিকম্প৷ রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার সেই ভূমিকম্পের কারণে শুরু হল সুনামি ৷ তাতে মারাত্মক ক্ষতি হলো ফুকুশিমার পারমাণবিক কেন্দ্রটি৷ পারমাণবিক চুল্লি ছিদ্র হয়ে চারপাশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সে সময় ৷
 
‘স্টেমিং দ্য টাইড ২০২০ : দ্য রিয়েলিটি অব দ্য ফুকুশিমা রেডিওঅ্যাকটিভ ওয়াটার ক্রাইসিস’ শীর্ষক গ্রিনপিসের এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় গত শুক্রবার। এতে বলা হয়, দূষিত এই পানিতে ১.২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কার্বন -১ এবং অন্যান্য "বিপজ্জনক" রেডিয়োনোক্লাইডের স্তর রয়েছে, যা প্রশান্ত মহাসাগরে ছেড়ে দেওয়া হলে মানব সম্প্রদায়ের এবং পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক প্ল্যান্ট টি শীতল করার জন্য কয়েক বছর ধরে কয়েক হাজার টন পানি সঞ্চয় করেছে। একবার ব্যবহার করার পরে,পানি স্টোরেজ মধ্যে রাখা হয়। কারণ এই ব্যহৃত পানি উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেললে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পারমাণবিক বিপর্যয়ের নয় বছর পর,তাদের স্টোরেজ স্পেস শেষ হয়ে গেছে,এবং সরকার এখনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে জলটি নিয়ে কী করা উচিত? তবে জাপান পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে এ তেজস্ক্রিয় পানি মহাসাগরে ছেড়ে দেওয়া ইঙ্গিত দিয়েছে।
তেজস্ক্রিয় দূষিত পানি সাগরে ফেলা হলে পরিবেশ এবং মৎস্য শিল্পে এর ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাপানের পরিবেশবাদীরা সহ স্থানীয় জেলেরা।

গ্রিনপিস জার্মানির সিনিয়র পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ শন বার্নি সিএনএনকে বলেছেন, ট্যাঙ্কগুলিতে মোট কার্বনের পরিমাণ ৬৩.৬ গিগা বেকেরেলস। যা মানব শরীরে জিন গত নানা রকম পরিবর্তন আনতে পারে।

জাপান সরকার গ্রিনপিসের এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। সরকার বলছে, পরিশোধন করে পানির তেজস্ক্রিয়তা কমানোর চেষ্টা চলছে এবং বিজ্ঞানীদেরও অনেকেই বলছেন এই পানির ঝুঁকি কম। 

গবেষকরা বলছেন তেজস্ক্রিয় পানি অপসারণের আরো দু’টি বিকল্প পন্থা আছে। আর তা হচ্ছে, পানি বাষ্পীভূত করা কিংবা অন্যান্য স্থানে এই পানি জমা রাখার ট্যাংক নির্মাণ করা। তবে গ্রিনপিস অভিযোগ করে বলেছে, সরকার এই তেজস্ক্রিয় পানির ঝুঁকি কম করে দেখানোর চেষ্টা করছে।    

 

ইত্তেফাক/এএইচপি/আরআই