২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পাখির মর্যাদা লাভ করেছে কমলা বুকের দোয়েল (রবিন)। সাধারণত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রবিন পাখি দেখা যায়। এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোতে এদের খুব একটা দেখা যায় না। তবে এবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রবিন পাখির দেখা মেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। কেউ কেউ রবিন পাখির যুক্তরাজ্য ছেড়ে চীনে আসাকে ‘ব্রেক্সিটের পরিণতি’ হিসেবেও মশকরা করছেন।
গত শুক্রবার বেইজিংয়ের একটি চিড়িয়াখানায় একটি রবিন পাখি দেখতে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। দলবেঁধে পাখিপ্রেমী আলোকচিত্রীরা আসতে শুরু করেন সেই চিড়িয়াখানায়। রবিনকে নিজের দেশে পেয়ে ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় করেন দুই শতাধিক আলোকচিত্রী। বেইজিংয়ের আকাশে রবিনকে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কারণ বেইজিংয়ের আকাশে রবিন পাখি দেখতে পাওয়াটা একটি বিরল ঘটনা। যদিও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে মশকরা করতে ছাড়ছেন না। অনেকেই মজা করে বলছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই রবিন যুক্তরাজ্য ছেড়ে চীনে এসেছে।
বার্ডিং বেইজিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা টেরি টাউনসেন্ড বলেন, রবিন সাধারণত বেইজিং থেকে ১৫শ মাইল দূরের অঞ্চল ইউরোপের পাখি। বেইজিংয়ের আকাশে রবিনের দেখা মেলা বিরল ঘটনা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের কোনো জায়গা থেকে বেইজিংয়ে এসেছে, যুক্তরাজ্য থেকে নয়। তিনি আরো বলেন, পাখিটি শীতের পর আপন ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করা যায়, শীতের বাকিটা সময় পাখিটা বেইজিংয়ে থাকবে। মার্চ মাসের দিকে হয়তো এটিকে আর দেখা যাবে না বেইজিংয়ে।
আরও পড়ুন: এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ফিলিপাইনের ছয় কর্মকর্তা
তিনি জানান, চীনের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মাধ্যমে প্রথমে রবিন পাখিটির কথা জানতে পারেন। কেউ একজন এটিকে ‘ব্রেক্সিট শরণার্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ঐ ব্যক্তি মজা করে লিখেছিলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই হয়তো পাখিটি যুক্তরাজ্য ছেড়ে চীনে চলে এসেছে। মূলত ঐ ঘটনার পর থেকেই পাখিটিকে নিয়ে এত আলোচনা। -বিবিসি
ইত্তেফাক/আরকেজি

