ফের তালেবানের দখলে গেলো আফগানিস্তান। দেশটির রাজধানী কাবুলের সড়কে সড়কে চলছে সংগঠনটির সদস্যদের মহড়া। ভীত হয়ে অনেকেই সেখান থেকে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে। এবার আফগানিস্তানে থাকা বিদেশীদের সহায়তায় এগিয়ে এলো পাকিস্তান।
এক ঘোষণায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেইখ রাশীদ আহমেদ বলেন, গত রবিবার থেকে এখন প্রায় ৯০০ জন বিদশী যারা আফগান নাগরিক নন, তারা বিমানে করে পাকিস্তান এসেছেন। যারা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান বিমানবন্দরে আসবেন তদের অন-এরাইভাল ভিসা দেবে পাকিস্তান। এই আওতায় আছেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, নাগরিক ও সাংবাদিক।

তিনি আরও বলেন, শুধু যে অন-এরাইভাল ভিসা দেওয়া হবে এমন না। তাদের ট্রানজিট ভিসার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। যাতে করে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে তারা। এছাড়া গত কয়েকদিনে কয়েকশো আফগান ও পাকিস্তানী নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। সেইসঙ্গে যেসব পাকিস্তানী নাগরিক এখনো আফগানিস্তানে অবস্থান করে তারা ফিরতে চাইলে ব্যবস্থা করা হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয় হবে।
গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালেবানরা। তারপর থেকেই বেশ উত্তপ্ত দক্ষিণ এশিয়ার বৈশ্বিক রাজনীতি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলসহ বিভিন্ন আফগান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ফোন করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের বরাতে জানা যায়, সার্বিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারসহ আফগান নাগরিকদের জন্য সকল ধরনের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপে পাকিস্তানসহ পুরো এ অঞ্চলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন ইমরান খান।
ফোনালাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ইমরান খানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তারা। আফগানিস্তানে সংকটজনক পরিস্থিতির সময় দেশটি থেকে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীসহ অন্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে সংকটজনক পরিস্থিতির সময় দেশটি থেকে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীসহ অন্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ইত্তেফাক/টিআর

