ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’, নেতৃত্বে মোজতবা খামেনি

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৮:০১

ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের সমাপ্তির পর সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে।

আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের শীর্ষ ক্ষমতায় শূন্যতা তৈরি হলে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। কিন্তু মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বে থাকলেও বাস্তবে তিনি এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেন না। বরং তেহরানের নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে একটি ছোট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী, যাদের বেশিরভাগই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর বর্তমান ও সাবেক সিনিয়র কমান্ডার।

এ গোষ্ঠীকে রিপোর্টে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ বলা হয়েছে। এদের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং খুব অল্প বয়সেই জেনারেল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, এই প্রভাবশালী কমান্ডারদের অনেকের সঙ্গে মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, যা গড়ে উঠেছিল তার পিতার অফিসে কাজ করার সময় থেকে। এখন এই নেটওয়ার্কই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এক ধরনের সমন্বিত শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীর অভিন্ন সামরিক পটভূমি, কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শিক অবস্থান ইরানের ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরও স্থিতিশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সাঈদ গোলকার জানান, এই ‘ব্রাদারহুড’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা একে অপরকে নজরদারিতে রাখে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা ধীরে ধীরে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রায় সব দিকেই প্রভাব বিস্তার করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/এসএইচ