বরগুনার আমতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৪২) এবং জাফর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক জাফর হাওলাদার (৪৫)। জাহিদুল হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে এবং জাফর চাওড়া ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের মৃত ইউনুছ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বন্দর হোসাইনয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফের নির্মাণাধীন ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন জাহিদুল ইসলাম। গত ১৩ মে ভবনের নিচে একটি সেপটিক ট্যাংকের ঢালাই করা হয়। বুধবার সকালে ওই ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে ভেতরে প্রবেশ করেন জাহিদুল। কিছুক্ষণ পর তার গোঙানির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে থাকা জাফর হাওলাদার তাকে উদ্ধারের জন্য ট্যাংকের ভেতরে নামেন। তবে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্যাংক ভেঙে দুজনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর নির্মাণাধীন ভবনের মালিক মাওলানা মো. ইউসুফ আত্মগোপনে চলে যান। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংক ভেঙে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা মারা গেছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

