নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে ওবায়দুল কাদেরের স্বস্তি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৫৪

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে বিচারকার্য সম্পাদন হয়েছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।’             ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে একটি স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ‘কিছু কিছু চেনা মুখ’ এসেছে। এটা আরো ভালোভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে এ কাজ হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, উক্ত ঘটনার তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভিডিও ফুটেজ থেকে কিছু এভিডেন্স পাওয়া যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ঘটনায় সরকার খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এখানে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত চলছে এবং সঠিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ভোলার ঘটনার পেছনে কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ আছে কি না, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো ‘দুরভিসন্ধি’ আছে কি না—সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সদ্য গেজেট হওয়া সড়ক পরিবহন আইন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সবারই প্রত্যাশা ছিল আইনটি বাস্তবায়ন হোক। বিধিবিধানের বিষয় আছে। আবার পরিবহনের দিক থেকে কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি ছিল। তারপরও আইনটা হয়েছে। আইনের কার্যকারিতা জাতির দাবি। এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।’ আইনে বিধি সংযুক্ত হলে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার শাস্তির বিধানে কোনো পরিবর্তন না করে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আইনের বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে আবারও ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠা নেতাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রিকেটারদের সমস্যার

সম্মানজনক সমাধান হয়েছে

এদিকে ক্রিকেটারদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিসিবি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সেখানে একটি বোর্ড আছে। বোর্ড সমস্ত কার্যক্রম তদারক করে। যা ঘটেছিল তার শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দেরিতে হলেও বিষয়টির সমাধান হয়েছে। খেলোয়াড়েরা প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।’ ক্রিকেট বোর্ডের পরিবর্তন হতে পারে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোর্ডের পরিবর্তন চাইলে সেটা প্রধানমন্ত্রী করবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু বিসিবির সভাপতি নন, যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খোঁজা হচ্ছে।

ক্যাসিনোতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় বিসিবির পরিচালক মো. লোকমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হলেও তাকে অব্যাহিত দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিসিবির সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। তাকে বোর্ডে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ বিসিবির (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) সভাপতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সভাপতি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত, আমি এটা মনে করি না। তথ্য-প্রমাণসহ কেউ বলতে পারেনি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গত নির্বাচন নিয়ে তার বক্তব্যের বিষয়ে ১৪ দলকে ব্যাখ্যা দেবেন।