নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে আসামিদের আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি নুসরাতের অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে হাসিখুশি দেখা গেলেও রায়ের পর কাঁদতে কাঁদতে কারাগারে গেছেন।
শুধু সিরাজই নন, সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদেরও কাঁদতে দেখা গেছে আদালত প্রাঙ্গণে। এছাড়া নুসরাতের পরিবারকে গালাগাল করেছেন কেউ কেউ; বিচারকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো আসামির স্বজনরা। আসামিদের কয়েকজন আইনজীবী ন্যায়বিচার পাননি দাবি করে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রায়ের পর পুলিশ আসামিদের এজলাস থেকে নিয়ে কারাগারের পথে রওনা হয়।
বোরকা পরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আসামি জাবেদের বিরুদ্ধে। নুসরাতের পা বাঁধা হলে পলিথিন থেকে কেরোসিন গ্লাসে ঢেলে তিনি নুসরাতের গায়ে ছিটিয়ে দেন এবং সব কাজ শেষে বোরকা খুলে পরীক্ষার হলে ঢুকে যান বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামি কামরুন নাহার মনির কোলে ছিল তার মাসখানেক বয়সি মেয়ে। রায় ঘোষণার পর শিশুটিকে কারারক্ষীদের কোলে দেখা গেছে। এ সময় সাংবাদিকরা মা-মেয়ের ছবি তুলতে গেলে মনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
কারাবন্দি থাকার সময়ই গত ২১ সেপ্টেম্বর মা হন মনি। রায় ঘোষণার পর বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ সব আসামিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। কারাগারে দিকে যাওয়ার পথে স্বজনরা আসামিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে। অনেক স্বজনকে ভ্যানের পাশে ঝুলতে দেখা গেছে। অনেককে ভ্যানের পেছনে ছুটতেও দেখা গেছে।
আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি রুহুল আমিনের আইনজীবী নাসির উদ্দিন বাহার বলেন, ‘সমাজের অসুস্থ রাজনীতির প্রতিহিংসার’ শিকার হয়েছেন তার মক্কেল। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রুহুল আমিন ফেনীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি। এই মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। রুহুল আমিন শুরু থেকেই এ হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। এদিকে রায় ঘোষণার সময় বা পরও আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান নয়নকে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গলসহ অনেকে এদিন আদালতে আসেননি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকরামুজ্জামান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
